হিজড়া র সাথে ১৩ বছরের প্রেম, অতঃপর… (ভিডিও)

আপনের চাওয়া তাই আশিক আবার বিয়ে করুক, তার কোলে আসুক একটা ফুটফুটে সন্তান। আপনের এখন স্বপ্ন এটাই।

হিজড়ার সাথে ১৩ বছরের প্রেম, অতঃপর… (ভিডিও)

 

আপন ঢাকার একটি এলাকার হিজড়া দের নেতা। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী আশিক আব্বাসের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় ১৩ বছর ধরে। তারপর?  

 

হিজড়া শব্দটি শুনলে আমাদের মাথায় প্রথমেই কী আসে? একসাথে দল বেঁধে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো কিছু মানুষের কথাই তো, তাই না? দোকান থেকে দোকানে, বাসা থেকে বাসায় তারা টাকার জন্য ঘুরে ফিরেন। নিয়মিত এই দৃশ্যের অবশ্য পরিবর্তন ঘটছে। আর পাঁচটা মানুষের মত স্বাভাবিক পেশাতেই নিজেদের অবস্থান পাকা করছে অনেক হিজড়াই। এতসব কিছুই তারা করেন জীবিকার তাগিদে, বেঁচে থাকার তাগিদে। এই বেঁচে থাকার গল্পটায় শুধু যে আর্থিক বিষয়ই জড়িত থাকে এমন নয় কিন্তু! আমার-আপনার কিংবা আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর মতোই তাদেরও আবেগ আছে, আছে অনুভূতির আয়োজন। সেই জায়গা থেকে এমনই এক গল্প তুলে এনেছে বিবিসি বাংলা। 

হিজড়া-প্রেম
হিজড়া র সাথে প্রেম © বিবিসি

 

রাজধানী ঢাকায় আশিক আব্বাস নামের এক ব্যবসায়ীর সাথে গেল প্রায় ১৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে হিজড়া সম্প্রদায়ের আপন নামে এক ব্যক্তির। সে সম্পর্ক গড়িয়েছে বিয়ে অবধি। 

 

কিন্তু শুরুটা কীভাবে হল? আশিকেরই বা কেন একজন হিজড়াকেই ভালো লাগলো? 

 

আশিক বলছিলেন, আপনের সাথে তার প্রথম দেখা পথের ধারে। প্রথম দেখাতেই আপনের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয় এই ব্যবসায়ীর। শীতের সেই সময়টা এখনও স্পষ্ট মনে আছে আশিকের। 

 

  ‘আমি দেখলাম দু’জন মানুষ আসতেছে। দুইটা মানুষ বলতে তারা, আমি দুর থেকে বুঝতে পারলাম যে, এরকম হিজড়া যে বলে যাদেরকে, এরকম কেউ আসতেছে। কোনও নারীও না কোনও পুরুষও না, এরকমটা মনে হলো দূর থেকে আরকি।’ 

 

আশিক সে সময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা খাচ্ছিলেন। আপন কাছাকাছি আসলে আশিক তার ভাপাপিঠার একটা অংশ আপনের মুখের সামনে ধরেন। আপন খেয়ে নেন সেটা। 

 

আমি নিজেও কিছু সময়ের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলেও আমার কাছে জিনিসটা ফিলিংসই মনে হলো। খুব ভালো লাগলো। আমার অন্তরে জানি কেমন লাগলো।

হিজড়া-প্রেম
হিজড়া র সাথে প্রেম © বিবিসি

 

এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। শুরুর দিকে ওই সম্পর্ক নিয়ে দোটানা ছিল দু’জনের মধ্যেই। আশিক স্বীকার করে নেন, হিজড়ারা কেমন হয়, সে বিষয়ে আতঙ্ক ছিল তার মধ্যে। তাদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা বা অভিজ্ঞতাও ছিল না তার। 

 

আপনও ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছিলেন। তার আশেপাশেই এত সুন্দর চেহারার হিজড়া থাকতে আশিক কেন তাকেই বেছে নিল, তারই প্রেমে পড়লো, সেটা নিয়ে মনে দ্বিধা জন্মে ছিল তার। 

 

‘ আমি তো দেখতে এতটা ভালো ছিলাম না। তো আমি তো, এত সুন্দর একটা ছেলে, ওর শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো, ও ভালো একটা ফ্যামিলির ছেলে, তো ও কেন আমার পিছনে।’

 

পরে আশিক আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সাথে আপনের পরিচয় হয়। এরপর পারিবারিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানও করেন তারা। এর কিছুদিন পর আইনিভাবেও তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।  

হিজড়া-প্রেম
হিজড়া র সাথে প্রেম © বিবিসি

 

কয়েকজন হিজড়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো বসবাস করেন আশিক আর আপন। আপনের চাওয়া, আশিক যেন ভবিষ্যতে আবার বিয়ে করেন। 

 

নিজের ভালোবাসার মানুষকে কেন অন্যের হতে দেখতে চান সে বিষয়েও খোলাসা করেন আপন। বলেন, তার নিজের বয়স হচ্ছে, বয়স হচ্ছে আশিকেরও। ব্যবসাটা আরেকটু গুছিয়ে নিলে আপনের চাওয়া তাই আশিক আবার বিয়ে করুক, তার কোলে আসুক একটা ফুটফুটে সন্তান। আপনের এখন স্বপ্ন এটাই। 

 

আর আশিকের? আশিক অবশ্য প্রতিবাদ করেন, চান আপনকেই। সারাজীবন জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান আপনকেই। 

আরো পড়ুন : ট্রান্সজেন্ডারদের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কি খুব কষ্টের?

 

আশিক আর আপন একটা বাচ্চা এরই মধ্যে দত্তক নিয়েছে। তিনি বলছিলেন, এরপরেও যদি ওই রকম প্রয়োজন হয় বা অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনেরও বাচ্চা ধারণ করা সম্ভব। 

 

আপনও তাই মেনে নিতে চান, থেকে যেতে চান আশিকের সঙ্গেই। 

 

‘ এভাবে আমাদের জীবনটা শুরু হলো, এখনও আছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, যদি কোনও বাধাবিঘ্নতা না আছে একসঙ্গেই থাকবো।’  

 

কেমন কাটলো দুজনের এবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে? সে প্রশ্নে আশিক বলছিলেন, ‘ প্রতিটা উপলক্ষই আমাদের পরম পাওয়া। আমরা নিজেদের মতো উদযাপন করি।’ 

 

আর এই ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে আমার তাকে এটাই দেয়ার বলতে বলতে আপনের কপালে চুম্বন একে দেন আশিক। 


আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...