সারাদিন ক্লান্তি : সমাধান কী?

এ প্রজন্মে খুব কম মানুষই পাওয়া যাবে যার সারাদিন ক্লান্তি লাগে না। ঘুম থেকে উঠলেও ক্লান্তি, বিছানা ছাড়তেও ক্লান্তি, ঘর ছেড়ে বাইরে বের হতেও ক্লান্তি, কিছু না করেও ক্লান্তি।

 

 

মোটকথা, আপনার সারাদিনের সঙ্গী হয়ে ক্লান্তি নামক বিষয়টা আপনাকে ছাড়তেই চাইছে না এবং কেন এত ক্লান্ত, এর আদৌ কোনো কারণ আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না। কথাগুলোর সাথে নিজের একটু মিল পেলে আজকের এ লেখনটি আপনার জন্য। তবে আদতে একে সারাদিনের ক্লান্তি না বলে অবসাদ বলা হয়। যা অনেকটা “ভাল্লাগে না” রোগের রোগী হয়ে থাকার মতো।
 
বিষয়টার সাথে যারা পরিচিত তাদের কাছে  এ আলাপনের প্রসঙ্গটা বড্ড স্বাভাবিক মনে হলেও যারা এ বিষয়ের সাথে বিন্দুমাত্র পরিচিত নন, তাদের কাছে আবার এ অবসাদকে মনে হবে “আলসেমির চুড়ান্ত লক্ষণ”।

 

 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- গুরুত্বপূর্ণ কাজে হুট করেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলা এবং কোন কাজেই শক্তি না পাওয়া। এতে অবশ্যই আপনার কাজের ক্ষতি হয়, যার নাম “ভাল্লাগে না কিংবা অবসাদ অথবা সারাদিন ক্লান্তি লাগা” বলে চালিয়ে নেওয়া যায়।
আবার ধরুন, যারা প্রচণ্ড কর্মঠ এবং নিয়মানুবর্তী, তাদের কাছে এগুলোকে “কাজ ফাঁকি দেওয়া কিংবা আলসেমি” বলে গণ্য হতেই পারে।

 

সারাদিন-ক্লান্তি
সারাদিন ক্লান্তি

 

তবে আদৌ বিষয়টির উপস্থিতি আছে কি না তা নিয়ে ভারতের স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক এক ওয়েবসাইট (বোল্ডস্কাই) এ এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মারাত্মক ধরণের অসুস্থতা থেকে অনেকের সারাদিনের ক্লান্তি অনুভূত হওয়ার বিষয়টা কিন্তু অসম্ভব কিছু না। আবার কম গুরুতর কোন অসুস্থতা থেকেও সারাদিনের ক্লান্তির বিষয়টার জন্ম হতে পারে।

 

এছাড়াও ঘুমের অভাব, হৃদরোগ কিংবা মানসিক নানান ধরণের চাপের কারণেও এমন ক্লান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
 
 

সারাদিনের ক্লান্তির কারণ কী?

 
আলাপনের এখানেই শেষ নয় বরং শুরু। আদতে সারাদিনের ক্লান্তির বিষয়টার সত্যতা যে আছে এবং এই ক্লান্তি লাগার পেছনে কিছু কারণও আছে যা উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক প্রতিবেদনে

 

তো চলুন পাঠক, একটু করে জানিয়ে দেওয়া যাক কী সেই কারণগুলো যে কারণে আপনার সারা দিনভর কাটে অজানা ক্লান্তিতে-
 

আদ্রতা!

সারাদিন ক্লান্তি
একটু পর পর পানি পান করুন। ©thriveglobal
আবহাওয়ার ক্ষেত্রে আদ্রতা নামক বিষয়টার উপস্থিতিকে যতটা সহজ ও স্বাভাবিক ভাবে নেই আমরা, শরীরের ক্ষেত্রে যেন ঠিক ততটাই অবমূল্যায়ন। স্বাস্থ্যের সার্বিক ভালোর জন্য শরীরের আদ্রতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আছে। আর এই আদ্র ভাব বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে পানি।

 

শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা এতটাই যে এর অভাবে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়ে যায়, স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে। এমন কী,  সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করাটাও অস্বাভাবিক নয়। আর এ কারণেই পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেট রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
একটা কথা সংযোজন না করলেই নয়, পানির বিকল্প হিসেবে অনেকে অ্যানার্জি ড্রিংক্স, কোমল পানীয় পান করে থাকেন। সত্যি বলতে পানির বিকল্প কখনই এসব ড্রিংক্স নয়। শীত পেরিয়ে যখন গ্রীষ্ম উঁকি মারছেই তখন আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাগে স্যালাইন এবং পানির বোতল নিয়ে রাখতে পারেন, বিশেষ করে যারা কর্মজীবী।
 

ভিটামিন বি-১২!

সারাদিন-ক্লান্তি
ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা। ©pinterest.
     
ভিটামিন বি-১২ কে প্রয়োজনীয় শক্তির আধার বলা বলা হয়। শরীরে এই ভিটামিনের অভাবকে সারাদিনের ক্লান্তি সহ মানসিক বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণ হিসেবে দেখা হয়। ডিম, মাছ ও মুরগি তে ভিটামিন বি-১২ এর প্রাচুর্যতা রয়েছে। অনেকে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন।  তবে চিকিৎসকরা প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণে বেশি জোর দিয়ে থাকেন।
 
 

ডায়াবিটিস!

সারাদিন ক্লান্তি
ডায়াবিটিস হলেও ভয়ের কিছু নেই। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে সব সম্ভব। ©wikipedia
কিছু লক্ষণ যেমন- অ্যানার্জি লেভেল কম থাকা, সবসময় তৃষ্ণার্ত থাকা, পানি পানের কিছু সময় পর আবার পিপাসা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব আসা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া,  মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয় যদি নিজের অথবা অন্য কারও মধ্যে লক্ষ্য করেন তবে কালবিলম্ব না করে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে নিন।

 

এ ধরণের লক্ষণ এবং সারাদিনের ক্লান্তির কারণ কিন্তু ডায়াবিটিসের লক্ষণ। সুতরাং লক্ষণ মিলে গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
 

রক্তস্বল্পতা!

 
রক্তের লোহিত কণিকার কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। কোন কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে রক্তে থাকা লোহিত কণিকাগুলোও কমে যেতে থাকে। যার দরুন দেখা দেয় সারাদিনের ক্লান্তি অথবা অবসাদগ্রস্থতা।

 

যা থেকে সারাক্ষণের মাথাব্যথা, ঘুমের ঘাটতি, হুটহাট ঘুম ভেঙে বুক ধরফর করার মতো সমস্যা দেখা যায়। লক্ষণ মিলে গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

অপর্যাপ্ত ঘুম!

শরীরের জন্য পুষ্টিকর খাবারের যেমন দরকার, তেমন দরকার পর্যাপ্ত ঘুমের। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, খাবারে অনিয়ম, অনিয়মিত কিংবা একদমই ব্যায়াম শুন্যতা ইত্যাদি কারণে শরীরে উপসর্গ দেখা দেয় নানান ধরণের রোগের।

 

যেগুলো থেকেও সারাদিনের ক্লান্তি দেখা দিতে পারে খুব সহজেই। রাতের অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে সারাদিন ক্লান্তি লাগা এবং ঘুম ঘুম ভাব, হাই আসা ইত্যাদি বিষয়ও হয়ে থাকে।

 

আরো পড়ুন : লিভার ভালো রাখতে মেনে চলতেই হবে যেসব নিয়ম

 

আর এসব কারণেই চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমের পক্ষে জোর দিয়ে থাকেন। অন্তত ৬ ঘন্টা ঘুম মানবদেহের শরীর ও মন দুইয়ের পক্ষেই ভালো, এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

সারাদিন-ক্লান্তি
সারাদিন ক্লান্তি

 

বিষন্নতা!

কিছু লক্ষণ বলছি, মিলিয়ে দেখুন তো পরিচিত কারও সাথে মিল আছে কি না-
দিনভর নেতিবাচক চিন্তা, মানুষের সঙ্গ থেকে লুকিয়ে থাকা, কারও সাথে মিশতে না চাওয়া, মন খারাপ থাকা, একা থাকতে পছন্দ করা, চেহারায় সবসময় বিমর্ষের মেঘ লুকোনো….. যদি এ লক্ষণ মিলে যায় তবে বলা যায় ব্যক্তিটি বিষন্নতায় আছে।

 

বিষন্নতার কারণেও কিন্তু সারাদিন ক্লান্তি লাগার বিষয়টি সৃষ্টি হয়। যদি আদৌ এ সমস্যা দেখা দেয় তবে এর সমাধানের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ!

স্বাভাবিক কিছু মানসিক চাপ আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠলেও যখন এর মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন কিন্তু এই চাপ আর চাপ থাকে না, হয়ে ওঠে বোঝা। আর এই বোঝা সদৃশ মানসিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে আমার কর্মক্ষমতা যার দরুন জন্ম নেয় সারাদিনের ক্লান্তি নামক বিষয়ের। চাপ এড়ানোর জন্য অনেকে অনেক কিছু বলে থাকলেও আদতে যে বা যারা মানসিক চাপে ভুগছেন, তারা জানেন বিষয়টার ভার কতটা। সেক্ষেত্রে যোগব্যায়াম, ধ্যান, সাধারণ কিছু ব্যায়াম আপনাকে কিন্তু দারুণ সাহায্য করবে।


This Bangla article is about feeling tiredness all the time.
Reference:
আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...