লিফি সি ড্রাগন: সাগরতলে জ্যান্ত লতার বিচরণ

সমুদ্রের একদম নিচে প্রবাল ঘেরা রাজত্বে লতাপাতার মধ্যে বসবাস এই ড্রাগনদের। মূলত এরা ছদ্দবেশ নিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। আর তাই হঠাৎ করে যদি কোন ড্রাগনকে আপনি দেখেও ফেলেন, ধরতেই পারবেন না যে এটা কি আদৌ কোন প্রাণি না-কি লতা-পাতা জাতীয় কিছু! দারুণ দেখতে এই ড্রাগনকে তাই নামকরণ করা হয়েছে 'লিফি সি ড্রাগন' নামে।

লিফি সি ড্রাগন: সাগরতলে জ্যান্ত লতার বিচরণ
মস্ত লিকলিকে একটা আগুনের লেলিহান শিখা মুখ থেকে বেরোচ্ছে আর পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে সামনে থাকা দৃশ্যমান সব কিছু। মুহুর্তেই প্রাণ থাকা শহরটা পুড়ে গিয়ে একরাশ ছাই-এর স্তুপ হয়ে গেলো।
আগুনের  শিখাটা বের করার মতো আর কোন জায়গা খুঁজে না পেয়ে ফোঁসফোঁস করে নাক দিয়েই কিছু ধোঁয়া ছেড়ে দিলো প্রাণিটি। বিশাল ডানা আর পায়ে বিশাল বাঁকানো নখ। নাম এর ড্রাগন। রূপকথার সেই ড্রাগন যার রাগ হার মানায় প্রাণিজগতের যে কোনো কিছুকে।
ড্রাগনের নাম শোনা মাত্রই মস্তিষ্ক আমাদের ডানা ওয়ালা একধরণের উড়ন্ত প্রাণির কথাই মনে করিয়ে দেয় যে কী না মুখ দিয়ে আগুন বের করতে পারে। পুরাণ, রূপকথা কিংবা মুভির বদৌলতে ড্রাগন শব্দটা এখন আর কারও অজানা নয়। কাল্পনিক এ প্রাণিটিকে এত ভালো করেই আমরা চিনে গেছি যে কখনও টাইম ট্রাভেলিং করে ড্রাগনের রাজত্বে পৌছে গেলেও দিব্যি বলতে পারবো, ‘আরেহ ঐতো ড্রাগন!’
ড্রাগনেরা আগুনের মধ্যে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে! রেগে গেলে এর পুরো দেহই আগুনে পরিণত হয়! ©pinterest.com

সাগরতলের ড্রাগন; গল্প নয় সত্যি!

একটা সময় ড্রাগনের নাম শুনে শুনে বড়ো হওয়া জাতিরা মোটামুটি আশায় ছিল যে, হয়তো কোথাও এর উপস্থিতি আছে। হয়তো দেখা হবে কিংবা পাওয়া যাবে এর ফসিল। কিন্তু সে আশায় পানি ঢেলে দেওয়ার মতো খবর হচ্ছে, বাস্তবে ড্রাগনের উপস্থিতি নেই, আবার আছেও! ড্রাগন নামধারী এক অন্য জাতের প্রাণিকে আপনি চাইলেই কিন্তু দেখতে পারবেন। তবে এর মুখ দিয়ে আগুন বের হয় না, আর বিরাট ডানাও নেই। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার পৌরাণিক সেই ভয়ংকর দেখতে ড্রাগনের মতোও নয় এরা। তাহলে দেখতে কেমন?
©calacademy.org
লিফি সি ড্রাগন; যে ড্রাগন এখনও বেঁচে আছে!

লিফি সি ড্রাগনের রাজত্বে!

সমুদ্রের একদম নিচে প্রবাল ঘেরা রাজত্বে লতাপাতার মধ্যে বসবাস এই ড্রাগনদের। মূলত এরা ছদ্দবেশ নিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। আর তাই হঠাৎ করে যদি কোন ড্রাগনকে আপনি দেখেও ফেলেন, ধরতেই পারবেন না যে এটা কি আদৌ কোন প্রাণি না-কি লতা-পাতা জাতীয় কিছু! দারুণ দেখতে এই ড্রাগনকে তাই নামকরণ করা হয়েছে ‘লিফি সি ড্রাগন’ নামে। আপনি একে সাগরতলের জ্যান্ত লতা বললেও ভুল কিছু হবে না। একে অনেকটা জ্যান্ত লতাপাতার মতোই দেখতে।
এক গুচ্ছ পাতার মতো দেখতে হয় লিফি সি ড্রাগনেরা  ©awesomeocean.com
ইংরেজিতে Leafy Sea Dragon, যার বৈজ্ঞানিক নাম Phycodurus Eques. দেহের গড়নটা পাতার মতোই ঝলমলে স্বচ্ছ বলেই একে Leafy ডাকা হয়। লিফি সি ড্রাগনেরা খুব একটা লম্বা হয় না, মাত্র ৩৫ সেন্টিমিটার হয়। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্রবাল, সামদ্রিক ঘাস ও লতাপাতার ভিড়ে রাজত্ব করে বেড়ায় এই ড্রাগনেরা। গায়ে কোন কাটা থাকে না এবং দেখতে ক্যাকটাসের মতো অদ্ভুত সুদর দেখতে এই প্রাণিটি মূলত অমেরুদণ্ডী।

 

এরা গায়ের রঙ পাল্টাতে পারে। দিনে এক রকম, রাতে অন্য রকম ©aquaficial.com

 

সি-হর্স, লিফি সি ড্রাগন, পাইপ ফিশ এরা Syngnathidae পরিবারের সদস্য অর্থাৎ একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সি হর্স, অক্টোপাস, স্কুইডের মতো এরাও গায়ের রঙ পালটে নিতে পারে। লিফি সি ড্রাগনেরা নানান রঙের হয়- সবুজ, গোলাপি, হলুদ। মুখের আকৃতি নলের মতো হওয়ায় এরা খাবার খায় শুষে। খাদ্য তালিকার মধ্যে লার্ভা, ছোটো চিংড়ি, কাঁকড়া, অনুজীব রয়েছে।
লিফি-সি-ড্রাগন
সমুদ্রের তলদেশে রাজকীয় কায়দায় চলাফেরাতে অভ্যস্ত তারা দু’জন, সি-ঘর্স এবং লিফি সি ড্রাগন। ©fineartamerica.com

 

চমৎকার দেখতে প্রাণিটি বড্ড ধীর গতির। সি-ফর্সের মতোই রাজকীয় কায়দায় হেলেদুলে শান্ত ভাবে চলাচল করে এরা। কোন কিছুতে তাড়া নেই। অন্য মাছের মতো এরা অত ছুটোছুটি করে না। ঘন্টায় এদের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ মিটার। দেহের পুরোটা পাতাময় তাই সি-হর্সের মতো এরা কোন কিছুতে নিজেদের আঁটকে রাখতে কিংবা নিজেরা কিছু আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে না। যার কারণে সামুদ্রিক ঝড় গুলোতে এদের শরীর খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, অর্থাৎ সমুদ্রে টিকে থাকার লড়াইয়ে এরা ভীষণ নাজুক তাই সমুদ্রের অন্যান্য প্রাণিদের তুলনায় এরা বেশি মারা যায়।


This Bangla article is about Leafy Sea Dragon.
Reference:
আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...