যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে রক্তচাপ কমে

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে বা শরীরে রক্তচাপ কমিয়ে ফেলে এরকম খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। জীবনযাপনের ধরন পুরোপুরি পাল্টানো সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হয়।

যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে রক্তচাপ কমে

 

আজকাল খুব কম পরিবারই খুঁজে পাওয়া যাবে, যেখানে অন্তত একজন উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যাতে ভুগছেন না। উচ্চ রক্তচাপ বা  হাইপারটেনশন এমন এক রোগ যা এখন এর কোন নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে আটকে নেই।শুধু বয়সের কারণে আপনার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি রয়েছে, ব্যাপারটা এমন নয়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতি ইত্যাদি নানা কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে।   

 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে বা শরীরে রক্তচাপ কমিয়ে ফেলে এরকম খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণজীবনযাপনের ধরন পুরোপুরি পাল্টানো সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হয় পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাতে অবশ্যই রাখতে হবে যেন শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করা যায় বা রক্তচাপ বেড়ে গেলে কমিয়ে ফেলা যায়। আসুন জেনে নেই, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে বা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কি ধরণের খাবার খাদ্যতালিকাতে রাখতে হবে।

আম

আট থেকে আশি সবার পছন্দের ফল আম। গ্রীষ্মকালীন এই ফল যেহেতু বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পাওয়া যায়, তাই এর প্রতি আগ্রহ ও যেন একটু বেশি থাকে সবার। এই সবার পছন্দের আম শুধু খেতেই সুস্বাদু না, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই ফল। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না, আমে ফাইবার বিটা ক্যারোটিন থাকার ফলে রক্তচাপ মে যায়।

  

কলা

ফলের তালিকাতে সবচেয়ে সহজলভ্য বোধ হয় কলা। রাস্তার আশপাশের চা এর দোকান থেকে শুরু করে সকালের নাস্তার টেবিল, সর্বত্রই দেখা যায় কলা।

অনেকের পছন্দের ফলের তালিকাতে কলা প্রথম স্থানে থাকে। পটাসিয়ামে ভরপুর এ ফলটি সারা বছর পাওয়া যায়। পটাসিয়াম  যেহেতু রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে, তাই রক্তচাপ কমাতে কলা খাওয়ার বিকল্প নেই। রক্তচাপ কমার সাথে সাথে স্ট্রোকের  ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। আপনি জেনে অবাক হবেন, একটি কলায় ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই, দামে সস্তা এই ফল নিয়মিত খেলে রক্তচাপ অন্তত ২ থেকে ৩ পয়েন্ট কমে যাবে। তাই সকালের নাস্তাতে একটি কলা অবশ্যই রাখুন।

আপেল

আপেল এমন এক ফল যা সারা বছরই কম বেশি পাওয়া যায়। যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি আপেল থেকে . গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায় যা রক্তে কুয়েরসেটিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। আর কুয়েরসেটিন এর পরিমাণ বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ এর ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।  

 

 কমলালেবু

গোলগাল আকৃতির কমলালেবুপুষ্টিগুণের জুড়ি নেই। চমৎকার সব ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ শীতকালীন ফল কমলালেবুভিটামিন ‘সি’তে  ঠাসা সুস্বাদু এই ফল অনেকেই খেতে পছন্দ করেনা না। ফল হিসেবে খেতে পছন্দ না করলেও টাটকা কমলার রস খেলে উপকার মিলবেই। শতগুণে সমৃদ্ধ এই ফল রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার সাথে সাথে শরীরের ভিটামিন সির চাহিদা পূরণ করে।

 

রসুন

রান্নাতে রসুন কম বেশি সবাই ব্যবহার করে। রান্না করা অথবা কাঁচা- যেভাবেই আপনি রসুন খান না কেন, এই প্রাকৃতিক উপাদানটি কোলেস্টেরল কমাতে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও রসুনে হাইড্রোজেন সালফাইড থাকার কারণে পেটের গ্যাসের সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসে। আপনি হৃৎপিন্ডে বাড়তি চাপ ও অনুভূত করবেন না। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রসুন খাওয়ার ফলে সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ বেড়ে বেড়ে যায় যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

তরমুজ
সারাবছর তরমুজ না পাওয়া গেলেও গরমকালের এই আঁশযুক্ত ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।প্রায় নব্বই ভাগ জলীয় অংশ তরমুজে থাকা্র কারণে গরমকালে তরমুজ সবার পছন্দের তালিকাতে থাকেতবে তরমুজ যে শুধু শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে তা নয়। তরমুজের গরমকালে পাওয়া স্বাস্থ্য উপকারিতা ছাড়াও তরমুজ হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। তরমুজে  উপস্থিত  ভিটামিন এ, ফাইবার, পটাসিয়াম, লাইকোপেন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে ভূমিকা পালন করে।   

তুলসি পাতা

সর্দি কাশিতে তুলসি পাতার বিকল্প নেই এ কথা সবাই কম বেশি জানে। তবে তুলসির উপকারিতা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত তুলসি পাতার রস খেলে রক্ত চাপ স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসবে। অনেকের এই রস খেতে ভালো লাগে না বলে খেতে চান না। তবে আপনি একটু ভিন্নভাবে খেতে পারেন। তুলসি পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আপনার খেতে ভালো ও লাগবে আবার অন্যদিকে আপনি উপকারও পাবেন।

 

পেঁয়াজের রস

ভাত খাওয়ার সময় কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এটি অবশ্যই ভালো অভ্যাস কেননা কাঁচা পেঁয়াজের রয়েছে অনেক গুন। পেঁয়াজ খাওয়ার  পাশাপাশি যদি পেঁয়াজের রস খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করবে। শুধু পেঁয়াজের রস খেতে হয়ত আপনার খারাপ লাগতে পারে। তাই ১ চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আপনি কিছুদিন পর থেকেই উপকৃত হতে শুরু করবেন। অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিনের রান্না করা তরকারিতে পেঁয়াজ তো থাকেই, তাহলে বাড়তি পেঁয়াজ খাওয়ার প্রয়োজন কি! আপনি যদি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে চান তাহলে আপনাকে আলাদা করেও পেঁয়াজ খেতে হবে।

 

পালং শাক

এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন যাতে আপনার শরীরের উপকার হয়। হরেক রকমের শাকের মধ্যে পালং শাকের উপকারিতা বর্ণনাতীত। হার্টকে সচল রাখতে এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাতে পালং শাক রাখুন। পালং শাকে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ,ফলেট এবং ফাইবার রক্তচাপ কমানোর সাথে সাথে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি থাকার কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 

ডার্ক চকলেট

চকলেট খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। ছোট থেকে বড় সবার পছনের তালিকাতে শীর্ষস্থানে রয়েছে চকলেট। তবে ডার্ক চকলেটের বেলাতে অনেকেরই আপত্তি থাকে। অনেকেই খুব একটা পছন্দ করেন না। মজার বিষয় এই যে, একটা ছোট্ট ডার্ক চকলেট উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে সত্যিকারের ডার্ক চকলেট আপনাকেই খুঁজে নিতে হবে বাজারে যেসব চকলেট ডার্ক চকলেট নামে পরিচিত সেসব চকলেট খেলেই যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে তা নয়। যেসব চকলেটে বেশি পরিমাণে চিনি থাকে সেগুলো রক্তচাপ আরো বাড়িয়ে তোলে যেমন: মিল্ক চকলেট বার।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপনাকে খাদ্যাভ্যাস পুরোপুরি বদলে ফেলতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। বয়স ও লিঙ্গভেদে রক্তচাপ যেন স্বাভাবিক থাকে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে খুব সহজেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এড়ানো যায় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা যায়। আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে কিনা তা দেখার জন্য ঘরে বসেই নিয়মিত রক্তচাপ চেক করুন


This is a Bangla article about the necessary food habit to bring hypertension under control.

Reference

যেসব খাবার খেলে শরীরে রক্তচাপ কমে
আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...