মানবসভ্যতার ইতিহাসে করোনার চেয়েও ভয়াবহ ৫ ভাইরাস

ভাইরাস হচ্ছে একপ্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা অণুজীব যারা শুধু জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এরা অতি-আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় অনুজীব।

©daily hunt

মানবসভ্যতার ইতিহাসে করোনার চেয়েও ভয়াবহ ৫ ভাইরাস

মানবসভ্যতার ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে মহামারি প্রাণঘাতী ভাইরাসে সংক্রামিত ও মৃত্যু ঘটেছে লাখ লাখ মানুষের । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে আবির্ভাব হয়েছে সেসব প্রাণঘাতি ভাইরাসের । করোনা ভাইরাসও সেরকমই বিশ্বব্যাপী মহামারি হিসেবে স্বীকৃত একটি ভাইরাস যা সম্প্রতি পুরো বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মহামারী নতুন কিছু নয় বরং এই চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এমন ব্যাধিও রয়েছে। আমরা আজ জানব সেরকমই ৫টি মরণব্যাধি ভাইরাসের কথা যেগুলো করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর মহামারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলো৷ তার আগে জেনে নিই ভাইরাস কী!

ভাইরাস : ভাইরাস হচ্ছে একপ্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা অণুজীব যারা শুধু জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এরা অতি-আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় অনুজীব।

মার্স

©kaler Kantho

২০১২ সালে এটি প্রথম শনাক্ত হয়৷ যেটির নাম দেওয়া হয়েছিলো মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে মার্স।  WHO অনুসারে মার্স ভাইরাস ২,৪৯৯ জনকে সংক্রামিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী ৮৬১ জন মারা গেছে। COVID-19-র সংক্রমণের তুলনায় মার্সের সংক্রমণ সংখ্যা কেবলমাত্র একটি ভগ্নাংশ, কিন্তু মূল পার্থক্যটি হচ্ছে এর মৃত্যুর হারে ।  COVID-19 এ সংক্রমিতদের মধ্যে  অনুমানকৃত মৃত্যুর হার ২% থেকে ৩% এর মতো। তার  বিপরীতে মার্সে সংক্রমিত ব্যক্তিদের মৃত্যুর হার ৩৭.২% যা করোনা ভাইরাসের মৃত্যুর হারের চেয়ে অনেক বেশি ।

COVID-19-এর মতো মার্স ভাইরাস সংক্রমণেও জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলি দেখায়।

ইবোলা ভাইরাস

©abcnews.go

১৯৭৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় সর্বপ্রথম ইবোলা ভাইরাস  শনাক্ত হয় । এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ইবোলার আক্রমণ দেখা যায়। এটি রক্তের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আমেরিকা বাদে অন্য মহাদেশে ইবোলা খুব বেশি একটা ছড়াতে পারেনি। আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইবোলার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এ সময় প্রায় ১১ হাজার লোক ইবোলায় মারা যায়। বিজ্ঞানীরা এখনও জানেন না যে বিরল এ  মারাত্মক ইবোলা ভাইরাস কোথা উৎপত্তি হয়েছে, তবে তারা বিশ্বাস করে যে এটি প্রাণী-বাহিত ভাইরাস এবং বাদুড় থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছে তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অনুযায়ী, গড় ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০%।

ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, অবসন্নতা, পেশী ব্যথা, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ফুসকুড়ি, কিডনি ডেমেজ এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ ।

 

মারবুর্গ

©Sciencemag

১৯৬৭ সালে বিজ্ঞানীরা মারবুর্গ ভাইরাস শনাক্ত  করেছিলেন যখন জার্মানির ল্যাব কর্মীদের মধ্যে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল । তাদের বেশিরভাগই উগান্ডা থেকে আমদানি করা সংক্রমিত বানরের সংস্পর্শে এসেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অনুসারে প্রথম মহামারিতে মৃত্যুর হার ছিল ২৫%। তবে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে ১৯৯৮ – ২০০০ এর দিকে এটির প্রাদুর্ভাব ৮০% এরও বেশি ছিল।

মারবার্গ ভাইরাসও ইবোলার মতো উভয়ই হেমোরজিক জ্বর সৃষ্টি করতে পারে যা সংক্রমিত ব্যক্তির বিকলাঙ্গ এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস

©Anandabazar

আধুনিক যুগেও প্রাণঘাতী এইচআইভি ভাইরাস যেন এক ভয়াবহ আতঙ্ক। ১৯০৮ সালে ভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়। আশির দশকের গোড়ার দিকে এই রোগটি প্রথম স্বীকৃত হওয়ার পরে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩২ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে।  এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি হলেও স্বল্প ও নিম্ন আয়ের দেশেই এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকার প্রতি ২৫ জনে একজন এইচআইভি’তে আক্রান্ত। এ ভাইরাসে মৃত্যু নিশ্চিত।

ইনফ্লুয়েঞ্জা  

©european pharmaceutical review

ডব্লিউএইচওর মতে, সাধারণ একটি ফ্লু মৌসুমে, বিশ্বব্যাপী রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যে ফ্লুর নতুন স্ট্রেইন দেখা দিলে সাধারণত, রোগের সংক্রমণ গতি এবং মৃত্যুহার—দুই-ই বেড়ে যায়। সবচেয়ে ভয়ংকর ফ্লু এখন স্প্যানিশ ফ্লু নামে পরিচিত। ১৯১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শুরু করে রোগটি। সে সময় বৈশ্বিক মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই এতে আক্রান্ত হয়। প্রাণহানি হয় পাঁচ কোটি মানুষের। ১৯১৮ সালের মতো আবারো নতুন কোনো ফ্লু মহামারী ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব কিছু না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


This is a Bengali article about ‘top 5 viruses more terrible than corona in the history of human civilization’.

Reference :
The 12 deadliest viruses on Earth

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...