ভারত চীন যুদ্ধ হলে কে জিতবে? (ভিডিও)

প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্ত বিরোধের পথ ধরে আবারো কি ফিরবে ১৯৬২ সাল? আবারো কি যুদ্ধে জড়াবে চীন-ভারত? যুদ্ধে জড়ালে কে এগিয়ে থাকবে তাতে? কার সামরিক শক্তি বেশি?

ভারত চীন যুদ্ধ হলে কে জিতবে? (ভিডিও)

 

১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকট পৃথিবীকে পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। সে বছরই অনেকটা সকলের অগোচরেই এশিয়ার দুই উদীয়মান শক্তি ভারত ও চীন লিপ্ত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, যা আপাতদৃষ্টিতে এক মাস স্থায়ী হলেও সুদূরপসারী প্রভাব ফেলে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে। মাসব্যাপী চলা সে যুদ্ধে চীনা সামরিক বাহিনী বিজয় লাভ করে। এত বছর পর এসে দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ আরো একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আচ্ছা, যদি দেশ দুইটি আবারো পরস্পর যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে এবার কে জিতবে?

হাজার বছরের পুরনো দুই সভ্যতা ভারত ও চীন দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক দাসত্বের পর স্বাধীনতা লাভ করার পর প্রথম দিকে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক যথেষ্ট উষ্ণ ছিল। কিন্তু বিস্তৃত অমীমাংসিত সীমান্ত এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব আন্তরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে বরাবরই বাধা হয়ে দাঁড়ায় যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় সশস্ত্র সংঘর্ষে।

১৯৬২ সালে প্রথম ও শেষবারের মত বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়ায় দেশ দুইটি। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং মাঝে-মধ্যেই সেটি মাথা চাড়া দেয়।

চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধের সূচনা হয় ২০১৭ সালে। গেল বছরও রীতিমত রক্ত ঝরানো সংঘর্ষে জড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দু’টি।

প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্ত বিরোধের পথ ধরে আবারো কি ফিরবে ১৯৬২ সাল? আবারো কি যুদ্ধে জড়াবে চীন-ভারত? যুদ্ধে জড়ালে কে এগিয়ে থাকবে তাতে? কার সামরিক শক্তি বেশি?

চীনের বার্ষিক সামরিক ব্যয় ২৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই তুলনায় ভারতের ব্যয় ১৯ হাজার কোটি ডলার কম। চীন এগিয়ে আছে সামরিক বাহিনীর জনবলেও। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সক্রিয় সামরিক বাহিনী রয়েছে দেশটি, বাহিনীর সদস্য প্রায় ২২ লাখ । এ দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে ভারতসহ অন্য সব দেশ।

আরো পড়ুন : চীন: কীভাবে হয়ে উঠলো আজকের অর্থনৈতিক পরাশক্তি? (ভিডিও)

চীন যে শুধু সামরিক শক্তিতেই এগিয়ে তা নয়, দেশটি ‘ওয়ার ভেইকেল’ থেকে শুরু করে ‘সমরাস্ত্র’ সব কিছুতেই টেক্কা দিয়েছে ভারতকে।

 

চীনের যুদ্ধবিমান আছে ৩ হাজার ২১০টি । ভারতের এর থেকে হাজারখানেক কম রয়েছে। ভারতের চেয়ে চীনের হাতে আছে দ্বিগুন ফাইটার এবং ইন্টারসেপ্টর।

চীনের সাজোয়া যানের সংখ্যাটাও বিস্ময় জাগানিয়া, প্রায় ৩৩ হাজার। কিন্তু এক্ষেত্রে ভারত অনেক দুর্বল, তাদের আছে মাত্র ৮ হাজার ৬০০টি।

সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ভারতের তুলনায় চীনের কাছে ১০ গুন বেশি রকেট উৎক্ষেপক আছে। একইভাবে ভারতের তুলনায় চীনের হাতে প্রায় তিনগুণ নৌ সম্পদ আছে।

চীনের আছে ৭৪টি সাবমেরিন। ভারতের আছে ১৬টি। চীনের কাছে আছে ৩৬টি ডেস্ট্রয়ার। ভারতের আছে মাত্র ১১টি।

১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর বিগত দশকগুলোতে এশিয়ার এই দুই দেশই বিপুল যুদ্ধাস্ত্রের সম্ভার গড়ে তুলেছে। পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে বিবাদও বেড়ে চলেছে। পারমাণবিক যুদ্ধ পৃথিবীর যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে অভ্যস্ত বিশ্ববাসীর কাছে নতুন কিছু নয়।

বেইজিং ১৯৬৪ সালে ও ভারত ১৯৭৪ সালে পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে ওঠে।

চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে প্রায় ৩২০টি। অন্যদিকে, ভারতের আছে ১৫০টি।

উভয় শক্তিই তাদের অস্ত্রাগারগুলো বিগত বছরগুলোর তুলনায় গেল বছর ভারি করে তুলেছে। বেইজিংয়ের অস্ত্রাগারে নতুন ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও নয়াদিল্লির অস্ত্রাগারে নতুন ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র বেড়েছে।

তবে কি ভারত কোনো দিক দিয়েই এগিয়ে নেই?

যুদ্ধ লাগলে তাহলে কি এবারও হেরে যাবে দেশটি?

চলুন এবার ভারতের এগিয়ে থাকার গল্প বলি।

চীনের হাতে আছে কমপক্ষে ৩ হাজার ২০০টি ট্যাংক। ভারতের আছে এর চেয়ে হাজারখানেক বেশি।

পদাতিক বা গোলন্দাজ বাহিনীর সম্মুখ সমরের দক্ষতা এগিয়ে রেখেছে ভারতীয় বাহিনীকে। কারণ, তারা নিয়মিত সন্ত্রাস দমন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ অভাবনীয় উচ্চতায়, প্রতিকূল পরিবেশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পারদর্শিতা এবং অভিজ্ঞতাকে অনেকটা বৃদ্ধি করেছে।

অন্যদিকে ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়া চীনা বাহিনীকে বড় কোনও সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি। ওই লড়াইয়ে ভিয়েতনামের বাহিনীর কাছে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল চীনা বাহিনী। ফলে এদিক দিয়ে ভারতই এগিয়ে।

লজিস্টিক বা অবস্থানগতভাবেও চীনের থেকে ভারত এগিয়ে। কৌশলগত দিক থেকেও এগিয়ে ভারতীয় বিমানবহর। চীনা পাইলটরা অনেক বেশি নির্ভরশীল গ্রাউন্ড কমান্ডের উপর। অর্থাৎ বিমানঘাঁটি থেকে দেওয়া নির্দেশের উপরেই তারা বেশি নির্ভর করেন। কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, উচ্চতা-ভৌগলিক অবস্থান-প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধক্ষেত্রগুলির একটি বলে বর্ণনা করা হয়, সেখানে বাস্তবের যুদ্ধে পাইলট সব সময় বিমানঘাঁটির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। ভারতীয় বিমানবহরের পাইলটরা মাটি থেকে আসা নির্দেশের উপর ততটা নির্ভরশীল নন, তা বালাকোট পরবর্তী আকাশযুদ্ধের মহড়া থেকে অনেকটাই স্পষ্ট। অর্থাৎ, পাইলটদের প্রতিকূল পরিবেশে অপারেশন চালানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বৈমানিকরাই এগিয়ে আছেন।

কাজেই, ভারত-চীন যুদ্ধে জড়ালে দুইটি দেশই কেউ কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না বলেই মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। দিনশেষে জয় নির্ধারণে সামনে আসবে নানান সমীকরণ। সেসব সমীকরণ উতরে গিয়ে ময়দানে টিকে থাকতে পারবেন যারা, জয় হবে তাদেরই।


 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...