পেডিকিউর : ঘরে বসেই পায়ের যত্ন

পেডিকিউর আপনাকে নানাধরনের নখের রোগ থেকে রক্ষা করবে আর আপনার পায়ের নখকে কোমল ও পরিষ্কার করবে।

পেডিকিউর : ঘরে বসেই পায়ের যত্ন

 

আমরা বাঙালিরা মুখের যত্ন নিতে খুব ভালোবাসি এবং এর যত্নের জন্য অনেক আয়োজন করলেও হাত ও পায়ের যত্নের কথা বেশির ভাগ সময় ভুলে যাই। এক কথায় বলতে গেলে হাত পায়ের যত্নের ব্যাপারে আমরা একেবারেই উদাসীন। পায়ের যত্ন (পেডিকিউর) নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ,তা নয়তো অল্প বয়সেই পায়ের অবস্থা ৭০ বছরের বয়ষ্ক মানুষের মত হয়ে যাবে। সারাদিনের সব কাজের চাপের দৌড়ঝাঁপ দুই পায়ের উপর দিয়েই যায়। তাই আমাদের নিজেদের সুস্থ থাকার জন্য পায়ের যত্ন নেয়া অত্যাবশ্যক।

 

পেডিকিউর শব্দটার সাথে হয়তো আপনারা কমবেশি সবাই পরিচিত। পায়ের যত্ন নেয়ার নামই হল পেডিকিউর। অনেকে মাসে একবার দুইবার পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর করে। কিন্তু পার্লারে যাওয়ার সময় বা সুযোগ না মিললে?

 

 দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ আপনাদের সুবিধার্থে আমরা আজ এই আর্টিকেলের মাধ্যমে তুলে ধরবো ঘরে বসেই পেডিকিউর করার উপায়।

 

কোনো পাঠ্যবইয়ে মূল টপিক গুলো শুরু করার আগে ওখানে লিখা থাকে টপিকটা কেন পড়বো, এটা পড়ার দরকার কী এবং কেন। ঠিক তেমনি ঘরে বসে পেডিকিউর কীভাবে করবো সেটা জানার আগে পেডিকিউর আমাদের কেন করা দরকার সেটা একটু বলে দেওয়া উচিত নয় কি?

 

আবার, অনেকের মনেই প্রশ্ন হতে পারে যে গোসলের সময় তো এমনি পা ঘষা হয়। তাহলে বাড়তি পেডিকিউরের দরকার বা কী?

 

অবশ্যই এর দরকার আছে। প্রথমত পেডিকিউর আপনাকে নানা ধরনের নখের রোগ থেকে রক্ষা করবে আর আপনার পায়ের নখকে কোমল ও পরিষ্কার করবে। এছাড়াও আপনার পায়ের গোড়ালিতে মৃত কোষ জমে জমে তা ভারী হয়ে যায়, তারপর চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়। তাছাড়া পায়ের গোড়ালিতে ফাঙ্গাস জমে থাকে। পেডিকিউর ফাঙ্গাস দূর করে আপনাকে ত্বকের রোগ থেকে রক্ষা করবে। সর্বোপরি, আপনার পায়ের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করবে।

পেডিকিউর
 পেডিকিউর © seventeen magazine

 

চলে আসি মূল কথায়। কীভাবে করবেন পেডিকিউর?

 

পেডিকিউরের জন্য আপনার কিছু উপকরণ প্রয়োজন হবে। যা হলো, পেডিকিউর কিট, তুলা, কুসুম গরম পানি, শ্যাম্পু, ঝামাপাথর, টোনার, লবন,  ফুট স্ক্রাব,  ময়শ্চারাইজার।

 

*** নেইলপলিশ পরিষ্কার করা পেডিকিউরের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনার পায়ের নখে নেইলপলিশ থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের নেইলপলিশ রিমুভার ব্যবহার করবেন। তুলায় নেইলপলিশ রিমুভার লাগিয়ে নেইলপলিশ তুলে ফেলুন।

 

*** এবার একটি মোড়ায় আরাম করে বসুন। একটি বড় পাত্র বা ছড়ানো বড় বাটিতে হালকা গরম পানি দিন। সাথে একটু লবন মিশিয়ে নিন। এবার এই গরম পানিতে আপনার পা দুটি ভিজিয়ে দিন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এই দশ মিনিটে পায়ে জমা হওয়া ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া দূর হবে। নখ, নখের চারপাশ কোমল হবে।

 

*** নেইলকাটার দিয়ে সুন্দর করে আপনার পায়ের নখগুলো কেটে নিন। চেষ্টা করবেন সব নখ যেন একদিক থেকে কাটা হয়। আর, চতুষ্কোণ আকৃতিতে নখ কাটতে চেষ্টা করবেন। এতে নখ সুন্দর দেখাবে। একেবারে গোল আকৃতিতে কাটলে নখ বেশ বেমানান লাগে। আর এভাবে নখ কাটলে এই নখ বড় হওয়ার সাথে সাথে তা চামড়ার ভিতরে ঢুকে তীব্র যন্ত্রণার সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে এই নখ কাটার জন্য চিকিৎসক এর শরণাপন্ন হতে হয়। তাই এগুলো থেকে রেহাই পেতে নখ কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পেডিকিউর
পেডিকিউর © n r fashion 

 

*** ভালো পেডিকিউর করতে চাইলে এই ধাপটি অবশ্যই করতে হবে। বাজারে নখের ত্বক পরিষ্কারের বিশেষ কাঠি পাওয়া যায় যা অনেক সময় নেইলকাটারের সাথেও থাকে। এই কাঠি দিয়ে নখের ত্বক ঘষে নিন। এতে নখের উপর জমা হওয়া বাড়তি ময়লা আবরন দূর হয়ে নখে গোলাপীভাব আসবে।

 

*** নেইল কাটারে ছোট ছোট দাগ দেয়া একটি অংশ থাকে। এটি মুলত নখ কাটার পর নখের ধারালোভাব দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে নখের অগ্রভাগের ধারালো অংশ ঘষে নিন।

 

*** একটি খসখসে পাথর (ঝামাপাথর) সংগ্রহে রাখুন। এরপর পা দুটো আবার কুসুম গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে নিবেন। এবার পাথরটি দিয়ে পায়ের গোড়ালি ভালো করে ঘষে নিন। পা ঘষা শেষে পানি বদলিয়ে পরিস্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন। তারপর স্ক্রাব দিয়ে পায়ের পাতা ভালো করে ঘষে নিন। পানি বদলিয়ে আবার হালকা কুসুম গরম পানিতে পায়ের পাতা টা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।

 

অনেকে সবজি কুচি করার যন্ত্র দিয়ে পায়ের গোড়ালী ঘষার কাজটি করে থাকেন। এ কাজ ভুলেও করবেন না। আপনার পায়ের মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে এটি।

 

*** এবার একটি নরম তোয়ালে দিয়ে পা দুটি মুছে ফেলুন।  এরপর পায়ের পাতায় ভালো করে টোনার মেখে নিন। তারপর ভালোমানের ময়শ্চারাইজার লোশন পায়ে ম্যাসেজ করে নিন। এতে পা দুটি কোমল ও মসৃণ হয়ে উঠবে।

 

*** আপনি যদি পায়ে নেইলপলিশ দিতে পছন্দ করেন তবে এ ধাপটি আপনার জন্য। প্রথমে নখে বেইজ কোর্ট বা ট্রান্সপারেন্ট নেইলপলিশ দিয়ে নিন। এর উপর আপনার পছন্দের রঙের নেইলপলিশ লাগান।

তবে নখে রেগুলার নেইলপলিশ লাগালে নখ এর প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে নখ হলদে হয়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে নখে নেইলপলিশ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। এতে পরবর্তীতে নখে নেইলপলিশ লাগলেও নখ তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাবে না।

 

ব্যাস, সহজ কয়েকটি ধাপে আপনার পায়ের যত্ন নেয়ার কাজটি মানে পেডিকিউরের কাজটি করা হয়ে গেল। এবার থেকে সময় করে ঘরে বসেই তবে পেডিকিউরের কাজটি করে ফেলুন।

 

মনে রাখবেন, পায়ে ব্যথা থাকলে ও কিন্তু গামলার লবণ মিশানো গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে আপনি আরাম বোধ করবেন এবং গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে তা একধরণের রিলাক্সাশন এর কাজ ও করে,যা শরীরে শ্রান্তি,ক্লান্তি দুর করতে সহায়তা করে।

 

কিছু পেডিকিউর সতর্কতা

পেডিকিউর

পেডিকিউর ©N.S style salon

 

 ** আমাদের আঙ্গুলের যে অংশ থেকে নখের শুরু সেই অংশটিকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল নখকে জীবাণু থেকে রক্ষা করে। তাই এর যত্ন নিন। পেডিকিউর করার সময় অবশ্যই খেয়াল করবেন যেন কিউটিকল-এর উপর কোন চাপ প্রয়োগ করা না হয় বা সেগুলো কাটার চেষ্টা করা না হয়।

 

** বার বার পায়ের পাতা অথবা গোড়ালিতে একই জায়গায় ঘর্ষণের ফলে পায়ের ত্বক শক্ত মোটা হয়ে যায়। এগুলো বেশি ভারী হলে চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়ে জায়গাটা ব্যথাও হয়ে যেতে পারে। আর এতে আপনি হাঁটাচলা করতেও অসুবিধা বোধ করতে পারেন,তাই এর থেকে মুক্তি পেতে হলে নিয়মিত ঝামা পাথর দিয়ে পা ঘষে পরিস্কার রাখতে হবে। তাহলে পায়ের গোড়ালি ফেটে রক্ত বের হয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবেনা।

 

আর নিয়মিত পা ঘষে পরিষ্কার করলে পেডিকিউর করার সময় ও বেশি বেগ পেতে হয় না। পায়ের গোড়ালিতে প্রতিদিন রাতে  পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন, এতে করে গোড়ালির ত্বক নরম,মসৃন ও কমনীয় থাকবে,যা আপনার পায়ের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিবে কয়েকগুণ। শীতকালে পায়ের গোড়ালির ত্বক ঠিক রাখার জন্য সবসময় মোজা পরে থাকতে পারেন,এমনকি রাতে শোয়ার সময় ও পায়ের গোড়ালিতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে তারপর মজা পরে শুতে পারেন। এতে আপনার পায়ের ত্বক সবসময় থাকবে কোমল ও মসৃণ ঠিক যেমনটি আমরা সবসময় চাই।

 

আরো পড়ুন : ঘরের কাজই যখন ব্যায়াম

 

** আপনি যতই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন না কেন কখনোই পেডিকিউর-এর আগে পা শেভ করবেন না। শেভ করার সময় কোন কারণে খুব অল্প একটু অংশও যদি কেটে যায় তাহলে পেডিকিউর করার সময়ে খুব সহজেই পানিতে থাকা ময়লা (পেডিকিউর করার সময় পায়ের ময়লা),ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে প্রবেশ করে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে।

 

এই ছিলো আমাদের পেডিকিউর নিয়ে টিপস ও ট্যাকটিকস। পরিশেষে, এটাই বলবো উপরের টিপসগুলো মেনে নির্ভয়ে পেডিকিউর করুন আর পা দুটি রাখুন কোমল ও আকর্ষনীয়।


This is a Bengali article on how to do pedicure at home. 

Feature Image: Skinworks School of Advanced

References-

1.How to Do a DIY Pedicure at Home in 8 Easy Steps

2.Pedicure at Home in 5 Easy Steps | How to Do Pedicure at Home.

3.How To Do Pedicure At Home With Natural Ingredients – NDTV Food

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...