নাটক কাজলরেখা : আরিয়ান কি পারলেন প্রত্যাশা মেটাতে? (ভিডিও)

ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার নাটক কাজলরেখা দর্শক হিসেবে আপনাদের লেগেছে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন কি কিন্তু!

নাটক কাজলরেখা : আরিয়ান কি পারলেন প্রত্যাশা মেটাতে?

 

কাজলরেখা নাটকটির গল্পের ভাবনাটা আফরান নিশোর। সাধারণ এক প্রেমের গল্প হলেও নাটকে কিছু ভিন্ন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা ছিল নির্মাণের কারিগরদের। সে জায়গা থেকে সফল বলা যায় কি না কাজল রেখাকে, সেটি জানতে এই ভিডিওর শেষ মিনিট পর্যন্ত দেখতে হবে আপনাকে। 

 

শুরুতেই আপনাদের জানিয়েছিলাম কাজলরেখার প্লট গড়ে উঠেছে সাধারণ এক প্রেমের গল্পের উপর ভিত্তি করে। আমরা সেই প্লটেই ঢুকতে চাই প্রথমে। 

 

নাটক-কাজলরেখা
কাজলরেখা নাটকের পোস্টার

 

একটি মফস্বল গ্রামের জুতার দোকানের কর্মচারী কাজল, ঘটনাক্রমে তার দোকানে একদিন ক্রেতা হয়ে আসে রেখা। সেটা অবশ্য তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাত ছিল, তবে সেই থেকে কাজলের মনের কোণে জমতে থাকে ‘না বলা প্রেম’। প্রতিবার কাজলের দোকানের নতুন জুতো জোড়া আসলে সেটা আগে উপহার পেত রেখা, এভাবে বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। সেই খবর পাড়া প্রতিবেশী মারফত নজরে পড়ে পরিবারের, রেখা’র পরিবার কাজলের সাথে তাকে বিয়ে দিতে চাইলেও মামা’র ১৫ লক্ষ টাকা দেনমোহরের আবদারে যেন কাজলের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।

 

 তারপর প্রশ্ন একটাই, কাজল কি পৌঁছবে রেখা অবধি ? 

 

 বিয়েতে দেনমোহর এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। দেনমোহর বিয়ের অন্যতম শর্তও। স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক এই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে অনেক মেয়ে পক্ষই রীতিমতো আকাশচুম্বী টাকার অঙ্ক দাবি করে বসেন। কখনো-বা দেনমোহরই ঠিক করে দেয় বিয়ের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এমনটা কি হওয়ার কথা? সম্পর্ক কি টাকার অঙ্কের মানদন্ডে বিচার হয়? না-কি ভালোবাসা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠে? নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান ঠিক এই জায়গাটিতেই জোর দিয়েছেন তার নাটকে। 

 

কাজল আগে কখনো প্রেম করে নি, কখনো চেষ্টাও করে নি। রেখার ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটতে দেখা যায়। রেখার প্রতি কাজলের ভালো লাগাটা অন্য আর দশটা প্রেমের সম্পর্কের মতোই হুট করেই জন্মে যায়। রেখারও অবশ্য মত ছিল। তার জন্যই সম্পর্কটা এগোতে প্রশ্রয় পেয়েছে। সরল এই পথচলায় ছিল না সামাজিক অবস্হান কিংবা ধনী গরিবের ভেদাভেদ। ভালোবাসা কি আর এত কিছু ভেবে হয়!

 

কাজল সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে অবশ্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল। নিজেকে সাজিয়েছিল দোকানের মালিক হিসেবে। কিন্তু আসল মালিকও সুযোগ পেয়ে তার বুকে ছুরি মেরে দিয়েছিল, সেটা পরে নাটক দেখলেই বুঝবেন আপনারা। 

 

নাটকের পরিণতিতে আসতে চাই। পরিণতি বললে দেনমোহরের কথাই আসবে। এটাই যে নাটকের গতিপথ বদলে দিয়েছে, না-কি শ্রেণী ভেদাভেদেরও উসকানি ছিল? আপনার কী মনে হয়? 

 

কাজলের সামর্থ্য ছিল না এত টাকা দেওয়ার। কিন্তু টাকা দিতে না পারলে যে হারাতে হবে প্রিয় মানুষকে, মরে যাবে জমে থাকা অনুভূতির আয়োজন! তাই সে চেষ্টার সবটুকু দিয়ে চেয়েছিল টাকা জোগাড় করতে। রেখাকে যে সে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছিল! তাই পিছু হটতে চায় নি সে। 

 

কিন্তু নিয়তি কি আর বদলায়? 

 

সম্পর্কটার পরিণতি তাই আটকে গিয়েছিল একটা মৃত্যু আর মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার বৃত্তে। কাজলরেখা এমনই এক অসমাপ্ত ভালোবাসার উপাখ্যান।  

 

কিন্তু দর্শকের চাহিদা বা প্রত্যাশার জায়গাটা কতটা মেটাতে পারলো কাজলরেখা? 

নাটক-কাজলরেখা
মেহজাবিন নিশো জুটি

 

তার আগে নাটকের কলাকুশলীদের কাছে যেতে চাই। কাজলরেখার গল্পটা আফরান নিশোর, এটা এতক্ষণে সকলেরই জানা। নাটকের কাজল চরিত্রটিতেও দেখা গেসে নিশোকে। ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে এই নাটকেও তাকে যথেষ্ট ভালো অভিনয় করতে দেখা গেছে। কাজল চরিত্রের বোকা বোকা সহজ সরল ছেলেটাও যে কি দারুণ ব্যাকুলতা নিয়ে প্রেমে পাগল হতে পারে, চাইতে পারে মনের মানুষকে, ভুগতে পারে ‘না পাওয়ার যন্ত্রণায়’ – নাটকের প্রতিটি দৃশ্যে নিশো তার অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন সেটাই। পেরেছেন কি -না সে বিচার আপনারাই করবেন। 

 

রেখা চরিত্রে মেহজাবিন চৌধুরী বরাবরের মতই তার অভিনয় প্রতিভাতে মুগ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। মেহজাবিনের বিশেষ একটা গুণ হচ্ছে, তিনি চরিত্র নিয়ে রীতিমত এক্সপেরিমেন্ট করেন। ভালো অভিনয় করার প্রবল খিদে থাকার জায়গা থেকে তিনি কাজলরেখাতেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। 

 

আর মিজানুর রহমান আরিয়ান? তরুণ এই নির্মাতা বড় ছেলে, বুকের বা পাশে সহ বেশ কিছু সময়ের সেরা নাটক বানিয়েছেন, দর্শকের মনে নিয়েছেন আলাদা এক জায়গা। সেই জায়গা থেকে কাজল রেখা কতটা প্রত্যাশা পারদ ছুঁতে পারলো সেটা অবশ্য প্রশ্নসাপেক্ষ।  

নাটক-কাজলরেখা
কাজলরেখা নাটকের পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান

 

ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার নাটক কাজলরেখা দর্শক হিসেবে আপনাদের লেগেছে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন কি কিন্তু!  

 

আরো দেখুন: কেন এত জনপ্রিয় হলো শিল্পী নাটক? 


 

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...