দ্বিতীয় পদ্মা সেতু (ভিডিও)

স্বপ্নকে সত্যি করে মাওয়া- জাজিরায় দাড়িয়ে গেছে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হতে চলেছে। শুধুই কি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ? পদ্মা সেতু তো পুরো জাতির স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শত বাধা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নির্মাণ করেছে এক স্বপ্নের সেতু। তাও আবার একেবারে নিজের টাকায়। নিজ অর্থায়নে মাওয়া- জাজিরায় পদ্মা সেতু নির্মাণের পর, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আরো বেগবান করতে এবারে আলোচনায় এসেছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা। 

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু (ভিডিও)

 

স্বপ্নকে সত্যি করে মাওয়া- জাজিরায় দাড়িয়ে গেছে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হতে চলেছে। শুধুই কি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ? পদ্মা সেতু তো পুরো জাতির স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শত বাধা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নির্মাণ করেছে এক স্বপ্নের সেতু। তাও আবার একেবারে নিজের টাকায়। নিজ অর্থায়নে মাওয়া- জাজিরায় পদ্মা সেতু নির্মাণের পর, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আরো বেগবান করতে এবারে আলোচনায় এসেছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাটি কিন্তু নতুন নয়। বরং, প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণের সমসাময়িক সিদ্ধান্ত এটি। ২০০৯ সালের ২৬ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশন দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব, পিডিপিপি অনুমোদন করে। প্রাথমিকভাবে সেতুর দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৬.১ কিলোমিটার। আর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পিডিপিপি অনুমোদন করে। সেতুর নির্মাণ খরচ জোগাড়ে একই বছরের ৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে সেতু বিভাগ। পরিকল্পনা ছিল ২০১৩ সালে শুরু হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ। চীনা একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিটুজি ঋণ দানের মাধ্যমে সেতু নির্মাণে আগ্রহও প্রকাশ করেছিল। এজন্য সেতু নির্মাণের জন্য সরকারকে দিতে হতো না কোনো টাকা। বিল্ড, ওউন, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করার কথা ছিল। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ঠিকাদার। টোল থেকে সেই টাকা পরিশোধ করা হবে। তবে, কাজে দেয়নি সে পরিকল্পনা। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় নি কোনো ঠিকাদারি সংস্থা। যদিও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ভাগ্য আসলে ঝুলে গেছিল প্রথম পদ্মা সেতুর জন্যই। বিশ্বব্যাংক অযাচিত দুর্নীতির অভিযোগে যখন বন্ধ করে দিয়েছিল পদ্মা সেতুর অর্থায়ন তখন, প্রথম সেতুর ভাগ্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরমধ্যে আবার নতুন করে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর চিন্তা মাথায় নেয়াটাও ছিল দুষ্কর। তাই আর আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ।

তবে, নিজস্ব অর্থায়নে প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণের পর, সরকার এবার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দিকে নজর দিয়েছে। সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ শুরু হচ্ছে চলতি বছরেই। শুরুতে প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য চারটি রুট প্রস্তাব করেছিল জাপানের কারিগরি সহায়তা দাতা প্রতিষ্ঠান। তারই একটি মাওয়া- জাজিরা রুটে নির্মিত হচ্ছে প্রথম পদ্মা সেতু। এবার প্রস্তাবিত সেই চার রুটের আরেকটিতে অর্থাৎ গোয়ালন্দ- পাটুরিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্পেন, কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চালাবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষার কাজ। এরপরই নিয়মতান্ত্রিক দরপত্রের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। তবে, শেষপর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান না পাওয়া গেলে প্রথম পদ্মা সেতুর মত নিজস্ব উদ্যোগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে আরো উন্নত। কমবে সময়ের অপচয়। দেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে রাজধানীর দ্রুততর পরিবহন ব্যবস্থা অবদান রাখবে দেশের জিডিপিতে। সেদিক বিবেচনায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি লাভজনক বিনিয়োগ।

প্রথম পদ্মা সেতুর নির্মাণের সময় একের পর বিনিয়োগকারী সংস্থা গুলোর সাথে টানাপোড়েনে যখন টালমাটাল অবস্থা, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা সেতু হবে, কেউ টাকা না দিলে নিজেদের টাকাতেই হবে পদ্মা সেতু! বিদেশি সেসব আর্থিক সংস্থার মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে খরস্রোতা পদ্মার বুকে দাড়িয়ে গেছে প্রথম পদ্মা সেতুর কাঠামো। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম শুনলেই সাদা চামড়ার যে সাহেবরা নাক সিটকাতেন তাদের দর্প চূর্ণ করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে “আমরাও পারি”। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বেশ পাকাপোক্ত। পদ্মা সেতুর মত অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হতে শুরু করলে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যাবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের মানুষের সুবিধা ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় খরস্রোতা পদ্মার বুকে পরিকল্পিত দুই সেতু দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই এখন প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...