দৃষ্টিভঙ্গির সম্মান: মানুষে মানুষে সহনশীলতা আর অহিংসতার ঢাল

একেকটা যুগের মানুষের অন্য যুগের মানুষদের কাছ থেকে শেখার কিছু না কিছু আছে। সব যুগেরই কিছু ভাল মন্দ বৈশিষ্ট্য আছে। একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি ও হয় একেক রকম।  এমন তো কোন যুগ বের করা যাবে না, যেখানে খারাপ, ভয়াবহ, নৃশংস কিছু ছিল না। তাই না?

 

গেল শতাব্দীর ষাটের দশকে হয়ত এমন কিছু ব্যাপার ছিল যেগুলো মানুষের জন্য অকল্যাণ বয়ে এনেছে অথবা মানুষের কোন উপকারে আসে নাই এমন কিছু রীতি বা প্রথা সেই যুগে হয়ত ছিল।

 

ঠিক তেমনি নব্বইয়ের দশকেও এমন কিছু ব্যাপার আছে, অনেক সুন্দর বা মনে রাখার মত। আমরা প্রায়ই বলে থাকি, নব্বইয়ের দশকের বাচ্চারা যেন গোন্ডেন কিড। কিন্তু আসলেই কি সবাই গোল্ডেন কিড? নাকি ওই যুগের বৈশিষ্ট্য আর কিছু উপাদান এমন ছিল যা পুরাতন আর একদম আধুনিকায়নের মিশ্রণ ছিল যার কারণে সেই যুগের সব কিছু অনন্য ছিল?

 

তখন বা তারও আগে টেকনোলজিক্যাল বুম বা ডিজিটাইলাইজেশান না হওয়া টা অনেক ক্ষেত্রেই আশীর্বাদ স্বরূপ ছিল। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এই যুগে বিজ্ঞানের উন্নয়ন কোন ভালো কিছু বয়ে আনেনি। সব পরিবর্তন কখনও খারাপ হতে পারে না যতক্ষণ না মানুষ নতুন অত্যাধুনিক আবিষ্কারের অপব্যবহার না করছে।

 

এই নতুন যুগের চিন্তা ভাবনা, সৃজনশীলতা অনেক নতুন কিছুর সূচনা করেছে, অনেক ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সাথে অনেক ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন।  

দৃষ্টিভঙ্গির-সম্মান
দৃষ্টিভঙ্গি

 

এতসব কিছু বলার কারণ এটাই বোঝানো যে, সবারই উচিত পরিবেশ পরিস্থিতি ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করে তারপর কোন বিষয়ে রায় দেয়া আর চূড়ান্ত মতামতে পৌঁছানো।

 

কোনো এক যুগের বা কোনো এক সময়কালের মানুষের অতিশয় প্রশংসা করে, অন্য যুগের মানুষের প্রতি পুরোপুরি খারাপ মনোভাব পোষণ করা কোনভাবেই সমীচীন নয়। এটা একদমই নতুন জেনারেশান থেকে শুরু করে আগের মুরুব্বি জেনারেশানদেরও বুঝতে হবে।

 

কিছু ব্যাপারে আমাদের সমাজের বয়স্ক ব্যাক্তি বর্গ অথবা মুরুব্বিগণ অনেক বেশি জাজমেন্টাল হয়ে ভাবেন আর একতরফা বিচার করেন, যার ফলশ্রুতিতে কেউ সুখী হতে পারে না। কোনো কিছুই তো আসলে স্থায়ী হয় না এই পৃথিবীতে, শুধুমাত্র পরিবর্তন টাই যেন স্থায়ী। এই বিষয়টা আগের জেনারেশানের মানুষদের বুঝতে হবে।

 

আবার নতুন জেনারেশানের যুবক- যুবতিরাও এই দূরত্ব আর অসামঞ্জস্যতা কে সহনশীলতা আর বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবিলা করা উচিত।

 

অনেক শতবর্ষ আগে যে গোড়া অযৌক্তিক প্রথাগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্টী বা গ্রুপকে খুব জ্বালাতন করত, এটা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে । কঠিন, দুর্বোধ্য, অযৌক্তিক অনেক নিয়মের পরিবর্তন হয়েছে, যার কারণে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ শান্তি পেয়েছে।

 

ঢেকিছাঁটা ধানের চাল আর গ্রামীণ চুলায় রান্না করা খাবার আমরা অনেক শহুরে মানুষরাই মিস করি। আর এই ঐতিহ্যকে বহাল রাখা অসাধারণ এক পদক্ষেপ হয়ত। কিন্তু যুগের পরিক্রমায় ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সমান তালে পড়াশোনা শিখছে আর অনেক মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিচ্ছে। তো সেইক্ষেত্রে আগের মত লাকড়ির চুলায় দিনের পর দিন রান্না করছে এমন নারীর সংখ্যা কমেছে আর অনেক মেয়েরা শহরমুখি হয়েছে।

 

গ্রামে যেসব বধুরা-মায়েরা এখনও মাটির চুলায় রান্না করছেন অথবা ঢেকিতে ধান ভানছেন, তারা চমৎকার কাজ করছেন, হয়ত উনাদের কারণে আমরা এই ঐতিহ্যকে আরো অনেকদিন দেখতে পাব।

 

কিন্তু এর বাইরেও কথা আছে আর তা হল, যারা গ্রামে থেকেও এইসব আর করছেন না বা করার ইচ্ছে পোষণ করছেন না। কারণ তারা এই আধুনিকায়নের যুগে, ইন্টারনেটের কল্যাণে হয়ত অন্য অনেক কোর্সের বা কাজের সন্ধান পেয়েছেন অথবা শহরে এসে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

 

তো তাদেরকে তো জোর করা উচিত হবে না অথবা তাদের এই নতুন কিছু করার চেষ্টা বা উচ্চতর পড়াশোনা করার স্পৃহাকে স্বাগতম জানাতে হবে।

 

দিন বদলাচ্ছে, সময় বদলাচ্ছে, ছেলে মেয়ে সবার চিন্তা চেতনা, সুযোগ পাল্টাচ্ছে।

দৃষ্টিভঙ্গির-সম্মান
দৃষ্টিভঙ্গি

 

আরেক ধরণের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। অনেক শতাব্দি আগে বাল্যবিবাহ প্রথা বা সতিদাহ প্রথা ছিল যা মোটেও ভাল কিছু বহন করে আনেনি মানুষের জীবনে। এখন আমাদের দেশে অন্তত এই প্রথা নেই, এই চিন্তাও বিলুপ্ত হয়েছে, যৌতুক না দিতে পারলে একদম শেষ করে দেয়া কোন প্রাণ, এই ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে বেশীর ভাগ মানুষ সোচ্চার।

 

এইসবই তো আধুনিকায়ন, শিক্ষা, আর উন্নত মননশীলতার ফল। স্বশিক্ষিত, উচ্চ চিন্তার অধিকারী মানুষগুলোই এই সব গোঁড়া, বে -মতলব প্রথা বা আচার অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন।

দৃষ্টিভঙ্গির-সম্মান
দৃষ্টিভঙ্গি

 

এরপর আসি অনলাইন জগত ও কম্পিউটার ব্যাবহার করা নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রেই ছেলে মেয়েদের ঘন্টার পর ঘন্টা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বা মোবাইল নিয়ে বসে থাকাকে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

 

কিন্তু যে বিষয়টা আসলে পর্যালোচনা করতে হবে তা হল, সেই ছেলেটি বা মেয়েটি কী কাজ করছে, কেন এতক্ষন বসে আছে তা জানার চেষ্টা করতে হবে। এখন শত শত প্রোগ্রামার, সফটওয়্যার, ইঞ্জিনিয়ার আছে যারা অনেক অল্প বয়সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এ্যপস তৈরি করছে, প্রোগ্রামিং করছে, কোডিং করছে, ওয়েবসাইট তৈরির কাজ করছে। তাই তাদের অনেকটা সময় কম্পিউটারের সামনে কাটাতে হচ্ছে, অনেকে বিভিন্ন প্রোজেক্টে কাজ করে বাসায় বসেই আয় করে। সেক্ষেত্রেও কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের ব্যাবহার অপরিহার্য।

 

এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে প্রশংসা করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে উঠতি বয়সের কিশোর কিশোরীদের দিকে খেয়াল রাখার প্রয়োজন নেই, যে তারা ইন্টারনেট কী কাজে ব্যাবহার করছে। অবশ্যই তদারকি করতে হবে কারণ খারাপ সাইট আর ইন্টারনেটের অপব্যাবহার অনেক ক্ষতিকর বাচ্চাদের জন্য।

 

আবার অনেক ছোট বয়সেই বাচ্চাদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাব দিয়ে দেয়া যাবে না শুধুমাত্র এই জন্য যে এখন চারপাশে সব কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত।

 

এই লেখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কে, ইতিবাচক পরিবর্তনকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা সৃষ্টি করা। ইংরেজীতে এই বিষয়গুলো বোঝাতে যে শব্দগুলো বেশী ব্যবহৃত হয়, তা হল Perspective and Perception.

 

আমি যে দিকটাকে বা মতবাদটাকে পুরোপুরি সঠিক বা পর্যাপ্ত মনে করছি, সেটা হয়ত অন্য কারো জন্য সমস্যা পূর্ণ। রেনেসাঁর ভাবমূর্তির মত, নতুন চিন্তা, চেতনা, আইডিয়াকে শুনতে হবে বুঝতে হবে একটু সময় নিয়ে, তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা কল্যাণকর নাকি অকল্যাণকর।

 

অনেক কিছুই আমরা ক্ষতিকারক না হলেও মেনে নিতে পারি না শুধু এই জন্যেই যে পুরনো প্রথা ভঙ্গ হতে পারে, অনেক বছরের চলে আসা নিয়ম ভঙ্গ হবে বলে। অনেক পরিবারেই এইসব নিয়ে অনেক ক্লেশ সৃষ্টি হয়ে থাকে যা পরবর্তীতে বড় আকার ধারণ করে।

দৃষ্টিভঙ্গির-সম্মান
একেক জনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম

 

এইসব বুঝানোর জন্য, প্যারিন্টিং এর বিভিন্ন রুপ, তরিকা উদাহরণ হিসেবে দেখানো যেতে পারে। আপনি সমাজে দেখে এসেছেন বাচ্চা হবার পর স্বামী- স্ত্রী চার পাঁচ বছর পর্যন্ত একসাথে ঘোরাই বন্ধ করে দেন। বাচ্চার নিরাপত্তা আর আরামদায়ক ব্যাবস্থাপনার কথা ভেবে সমস্ত ভ্রমণকে না বলেছেন, ফলশ্রুতিতে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্কে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসে, অনেকটা নিরানন্দ বিরাজ করে। এখন ধীরে ধীরে আপনার আশেপাশে দেখলেন কিছু শিক্ষিত একটু ভিন্ন চিন্তা সম্পন্ন কাপল বাস করছেন যারা বাচ্চা একটু শক্ত হবার পর ই একসাথে ভ্রমণে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাছে সন্তানদের শক্ত বানানোর এই প্রক্রিয়া কার্যকর মনে হয়েছে। কারণ তাহলে বাচ্চারা ছোট বয়স থেকেই খাপ খাওয়ানো শিখবে আর বাবা মাকেও তাদের আনন্দ বিসর্জন দিতে হবে না সব সময়। সেক্ষেত্রে স্বামী- স্ত্রীর ঘরে বসে থাকতে হবে না অনেক গুলো বছর, ফিল্ড ট্রিপ আর কনফারেন্স বাতিল করতে হবে না।

 

স্বামী কনফারেন্সে গেলে স্ত্রীও বাচ্চা নিয়ে যেতে পারল, স্বামী অফিসিয়াল কাজ করল আর স্ত্রী বাচ্চা সামলে নিল।। আবার একটু ঘুরাফেরা ও করল নতুন জায়গা। আবার স্ত্রী অফিসিয়াল ফিল্ড ট্রিপে যেতে হলে স্বামী ও সঙ্গী হল বাচ্চা নিয়ে আর তাতে বাচ্চার ও মাকে ছাড়া থাকতে হল না। এই পরিবর্তন টা কিন্তু দারুনভাবে ইতিবাচক। তাই আপনি এই ভাবে বড় করেন নি বা আপনি এইভাবে ঘুরতে পারেন নি বলে, পুরো আইডিয়া বা প্রচেষ্টাকে ফালতু বলে মন্তব্য করা মোটেই সমীচীন নয়।

 

সমাজের পূর্বের জেনারেশান এই নিয়মে অভ্যস্ত নয় বলে নতুন জেনারেশান এই পরিবর্তনে উপকৃ্ত হলেও তাদেরকে খারাপভাবে জাজমেন্টাল মন্তব্য করতে হবে এমনটা তো উচিত নয়। তার মানে আবার এই নয় যে সমস্ত নতুন ট্রেন্ড বা আবিষ্কার আমাদের জন্য ভাল হবে। পশ্চিমা দেশের অনেক কিছুই আমরা দেখে শিখতে পারি। বিশেষ করে তাদের সিস্টেম আর ম্যানেজম্যান্ট, নিজের দেশের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা, এইসব কিছু ইতিবাচক ব্যাপার।

 

আমরা তাদের নতুন সিস্টেম, প্রক্রিয়া গুলো খেয়াল করতে পারি। কিন্তু তার মানে এই নয়, আনন্দ করতে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে মদ্যপান করা, অন্যান্য নেশাজাতক দ্রব্য নেয়া এই সব কে নতুন ট্রেন্ড বলে চালিয়ে দেয়া যাবে আর তাতে মুরুব্বিরা বাঁধা দিলেই বা বোঝাতে আসলেই আমরা রুঢ আচরণ করব। তা তো কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। আমাদের ও নতুন জেনারেশান হিসেবে ও আধুনিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের সীমা নির্ধারণ করা জানতে হবে। আধুনিকতার গড্ডালিকায় যেভাবে ইচ্ছে সেইভাবে গা ভাসানো যাবে না।

 

এই সব কিছু বুঝতে হলে, একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি , একে অপরের সমস্যা, অবস্থান এই সব কিছুকে মর্যাদা দিতে হবে, শুনতে হবে।

 

পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, স্বাভাবিকীকরণ এর সংজ্ঞা জানতে হবে। সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার,  জানার আগ্রহ থাকতে হবে, পেপার পত্রিকা, রিসার্চ আর্টিকেল, চোখে পড়লে পড়তে হবে। এমনকি একই বিষয় নিয়ে বাইরের দেশে কি হচ্ছে, জানার আগ্রহ থাকতে হবে। চোখ কান বন্ধ রেখে যেই নীতিতে বিশ্বাসী সেই নিয়েই অটল থাকব, অন্য কারো ধ্যান ধারণা বোঝার চেষ্টাও করব না। এমন হলে অনেক মানুষের সাথে মিলেমিশে সমস্যা পূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি না করে বসবাস করা মুশকিল হবে।

 

এই পরিবর্তন এর কথা বলতে গেলে, W. B. Yeats এর বিখ্যাত কবিতা “The Second Coming” এর বেশ কিছু লাইন নিয়ে ভাবা যায়-

“The falcon cannot hear the falconer

Things fall apart, the center cannot hold,

Mere anarchy is loosed upon the world. “

 

এরপর কিছু লাইন বাদ দিয়ে আরো কয়েকটি খুব গুরুত্ববহ লাইন-

“Surely some revelation is at hand,

Surely the Second Coming is at hand.”

 

তো, এই কবিতায় বলা হচ্ছে, কীভাবে কোনো এক জাতি বা যুগ বা সময় পরিবর্তন হচ্ছে বা হবেই, যা কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে পুরনো কিছু, হয়ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছে। পুরনো সব বিলুপ্ত হচ্ছে, হয়ত নতুন কোন পরিক্রমার লক্ষ্যে, নতুন কিছু আসছে খুব ভিন্ন, এক্টু অদ্ভুত অথবা খুব ভয়াবহ।

 

এই লাইন গুলো যদিওবা প্রকাশ করছে যে কিছু অতীব খারাপ সময় আসতে যাচ্ছে যা মানবতা বর্জিত হবে, যা নিয়ে কবি চিন্তিত। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই হয়ত বলেছেন। কিন্তু এর মাঝে ধ্রুব সত্য হল, সেই নতুন কিছু আসা কেউ ঠেকাতে পারছে না, পারবে না।  যুগের পরিবর্তন, চিন্তার পরিবর্তন, জীবন যাত্রার পরিবর্তন, যা আসলে খারাপ ভাল দুই এর ই সংমিশ্রণ হবে।

দৃষ্টিভঙ্গির-সম্মান
দৃষ্টিভঙ্গি

 

এখন কিছু সত্যিকার ঘটে যাওয়া পরিবর্তন নিয়ে আলাপ করা যাক যে ঘটনা আর সময়ের মাঝে খারাপ ভাল পরিমাপ করা কঠিন। ব্রিটিশ আমলে যখন বাংলাদেশ অথবা পুরো ভারত উপমহাদেশ কব্জায় ছিল, ২০০ বছরের গোলামী ছিল, সেই সময়ের কথা, সেই শতকের কথা ভাবুন তো! অনেক কিছুই অনেক জঘন্য ছিল যা আমরা আর ফেরত চাই না। তাই না?

গগলস
নীল চাষী দের উপর অত্যাচার ব্রিটিশ আমলে।

 

আবার ব্রিটিশদের কাছ থেকে মুক্তি পাবার পর পূর্ব পাকিস্তান যখন হলাম আমরা, তখন মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের নীচে শাসন কতই না ভাল হবে যেহেতু বেশীর ভাগ ই মুসলিম সম্প্রদায় পূর্ব পাকিস্তানে। আমরা আমাদের ভাষা বাংলাই রাখব খালি দুই পাকিস্তান মিলে থাকব। অথচ তারপর কি হল সবাই জানি।

 

১৯৫২ সালের সেই নির্মম ঘটনা দিয়ে শুরু, তারপর ২৫ শে মার্চ আর ৯ মাস ব্যাপী লাগাতার খুন আর ধর্ষণ তো চলেছেই। হয়ত তখনকার মানুষের মনে হয়েছে ইংরেজ অমুসলিমরাও এত্তটা অসভ্য ছিল না যতটা তান্ডব পাকিস্তানি মিলিটারিরা করেছে। । বাংলাকে স্বাধীন করার জন্য কত কি করেছেন আমাদের মুক্তি সেনারা।

 

আরো পড়ুন : না বুঝে, না জেনে তিলকে তাল করবেন না

 

এখন তো আমরা নিজ দেশে মুক্ত, ১৯৭৫ সালের পর থেকেই তো আমরা নিজ দেশে মাথা উঁচু করে থাকছি। কিন্তু গত কয়েক বছরের কথা ভাবুন তো। কত শত শত ধর্ষণ, হত্যা, দিনে দুপুরে, বিচারহীনতা, দুর্নীতির চরম শিখরে পৌছে যাওয়া। এবং এই বার কালপ্রিট কিন্তু পাকিস্তানিরা বা ইংরেজ রা নয়, আমরা আমরা।

 

সব ভেঙ্গে দিচ্ছে, সাম্প্রদায়িকতা চরম আকার ধারণ করেছিল গত চার পাঁচ বছর, মতের অমিল হলেই অথবা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ খুন করে ফেলা, অমানসিক অত্যাচার করা আরো কত কি!! এই সব কিন্তু এই রক্তে অর্জিত স্বাধীন দেশেই হচ্ছে। তাহলে কোন সময় ভাল আর কোন সময় খারাপ!! পরিমাপ করা যেন কঠিন।

 

তারপর ও আশা এইটুকুই এখনো নিজেদের সংৃস্কতি, নিজেদের ঐতিহ্য পুরোটা হারাইনি। এখন শুধু বাইরের দেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো পদক্ষেপ গুলোকে মাথায় রেখে, উন্নয়নের পথে এগোতে হবে শিক্ষা আর মেডিকেল সেক্টরে, দুর্নীতি দুর করার পরিকল্পনা করতে হবে।

 

প্রতি যুগেই তাই যেটা মানব গোষ্ঠির জন্য খারাপ তা বর্জন করতে হবে, যেটুকু ভাল তাকে আকঁড়ে ধরতে হবে। সব কিছুর উপরে মানুষের গুরুত্ব থাকবে, কোন এক গোষ্ঠী যেন অনেক বেশি শোষিত না হয়, সেই বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। পুরনো চিন্তার বুজুর্গ আর একদম পোস্ট মডার্ন জেনারেশানের মধ্যে বিস্তর তফাত টা ধীরে ধীরে অসহিংসতার মাধ্যমে কমাতে হবে। বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি। 

 

[এই লেখাটি লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন।  লেখার কোনো অংশ বিতর্কিত মনে হলে গগলস কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ]


This article talks about the understanding of others’ perspectives and the importance of accepting positive changes around us.

Sources and explanations:

1. neboagency

2. owlcation

 

 

 

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...