মেনিকিউর : ঘরে বসেই হাত ও নখের যত্ন

নারীদের যেহেতু নিয়মিত ঘরের বিভিন্ন কাজের জন্য পানির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাই হাত ও নখের যত্ন না নিলে হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ফাঙ্গাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঘটতে পারে অঘটন,তাই হাতের যত্ন নেওয়া উচিত।

মেনিকিউর : ঘরে বসেই হাত ও নখের যত্ন

 

আমরা কমবেশি সবাই সৌন্দর্যের পূজারী।সুন্দর জিনিসের প্রতি আমরা সকলে সহজেই আকৃষ্ট হই। সুন্দর ও সুস্থ শরীরের অন্যান্য অংশের যত্নের মতোই হাত পায়ের যত্ন নেওয়া বা মেনিকিউর করা প্রয়োজন। আর আমাদের হাত পায়ের সৌন্দর্য্যের অন্যতম অংশ হলো নখ।

নারীরা বাসায় রান্নার কাজ ও অন্যান্য কাজে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে। নারীদের প্রায় সব কাজেই পানির ছোঁয়া আছে। হাত ও নখ সুন্দর রাখতে পানির সংস্পর্শ যত এড়িয়ে যাওয়া যায় ততই ভালো।তবে আজকাল অনেক হাতে গ্লাভস পরে কাজ করেন।

 

নারীদের যেহেতু নিয়মিত ঘরের বিভিন্ন কাজের জন্য পানির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাই হাত ও নখের যত্ন না নিলে হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ফাঙ্গাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঘটতে পারে অঘটন,তাই হাতের যত্ন নেওয়া উচিত।

 

আজকাল প্রায়ই কোনো অনুষ্ঠান হলে সাজগোজের জন্য আমরা হরহামেশাই পার্লারে চলে যাই। শুধু সাজগোজের জন্যই নয়, ফেসিয়ালের জন্যও আমরা পার্লারে দৌড়াই। তবে আমরা যতটা সচেতন আমাদের মুখের সৌন্দর্য্য নিয়ে,ঠিক ততখানি আমরা উদাসীন আমাদের হাত আর পায়ের সৌন্দর্য ও সুস্থতা নিয়ে।

 

ব্যস্ততার জন্য পার্লারে না গিয়ে ঘরে বসে যেমন মুখের যত্ন অর্থাৎ ফেসিয়াল করা যায়,তেমনি চাইলে ঘরে বসেই হাত পায়ের যত্ন নেয়া যায়।

 

মূলত হাতের পাতা নখ ও আঙুলের যত্ন নেওয়ার যে প্রক্রিয়া তাকে মেনিকিউর বলা হয়। পার্লারে গিয়ে অনেক সচেতন নারীই মেনিকিউর করিয়ে থাকেন। তবে সময় স্বল্পতার জন্য পার্লারে যাওয়ার ঝামেলা এড়িয়ে ঘরে বসেই মেনিকিউরের কাজটা সেরে ফেলতে পারবেন।

 

কেন করবেন মেনিকিউর?

ঘরে-বসে-মেনিকিউর
মেনিকিউর ©Good spa guide

 

যেকোন বয়সী নারীর জন্যই মেনিকিউর করা প্রয়োজন। তরুণী থেকে শুরু করে গৃহিণী, সবারই উচিৎ হাতের যত্ন নেওয়া। অতি সাধারন ব্যাপার হলেও এ কথা সত্য যে অনেক সময় অন্যের কাছে আপনার ব্যাক্তিত্ব কিংবা রুচিশীলতার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় আপনার হাতের সৌন্দর্য।

 

এই যেমন ধরুন, আপনি চাকুরীর জন্য গিয়েছেন। ভাইবা বোর্ডে ফাইল এগিয়ে দেওয়ার সময় দেখা গেল আপনার হাতের নখ হলদেটে হয়ে আছে কিংবা নখে জমে আছে ময়লা। এটি কি খুব বেশি শোভনীয়?

 

আবার যদি আপনার বাসায় কোনো অতিথির সামনে খাবার পরিবেশনের সময় আপনার হাতের পাতা হলদেটে ও নখে ময়লা জমে থাকে ,তবে সেটিও মোটেও শোভনীয় নয়। সেটি আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্তরায়।

 

আর তাই মুখের সাজগোজ ,সৌন্দর্য ও পোশাকের প্রতি যত্নবান হওয়ার সাথে সাথে হাতের প্রতিও যত্নশীল হতে হবে।

 

তাহলে চলুন ধাপে ধাপে শিখে নেওয়া যাক মেনিকিউর করার উপায়গুলো।

 

কী কী লাগবে? 

প্রথমত, মেনিকিউর করার জন্য আপনার কয়েকটি জিনিস লাগবে। যেমন তুলোর বল বা তুলা, নেইল কাটার, নখ শেইপ করার যন্ত্র,হালকা কুসুম গরম পানি, শ্যাম্পু, উলের জালি, টোনার, লোশন ইত্যাদি। সেগুলো হাতের কাছে নিয়ে বসুন।

 

মেনিকিউর করার পদ্ধতি

এবার আসি মেনিকিউর করার পদ্ধতিতে।

১. আপনার নখে নেইলপলিশ দেয়া থাকলে সেগুলোকে ভালো করে তুলে ফেলুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের নেইলপলিশ রিমুভার একটু তুলায় লাগিয়ে তবে তা ব্যবহার করবেন। আর যদি নেইলপলিশ না থাকে,তবুও একটু তুলা পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে নখগুলো মুছে ফেলুন।

মেনিকিউর ©the sun

 

২. একটা বড় বোলে কুসুম গরম পানি নিয়ে সেই পাত্রে কিছুক্ষন আপনার হাতের পাতাগুলো ডুবিয়ে রাখুন। তারপর নখ একটু নরম হলে নেইল কাটার দিয়ে নখগুলোকে সুন্দর আকার দিন। নখ একদম বেশি ছোট করে ফেলবেন না। এটি দেখতে বেমানান লাগে।

 

আঙুলের অগ্রভাগে একটি হালকা রেখা দেখা যায়। খেয়াল করে, অন্তত সেই রেখা পর্যন্ত রেখে নখ কাটুন।

নখের দুই কোনা গোলাকার আকৃতিতে না কেটে ডিম্বাকার বা চতুষ্কোণ আকৃতিতে কাটুন। গোলাকার করে কাটলে তা পরবর্তিতে বাড়তে অসুবিধা হয় এবং এভাবে গোলাকার করে কাটা নখ বড় হওয়ার সময় তা চামড়ার ভিতর ঢুকে ব্যথার উদ্রেক করে। পরবর্তীতে সেই নখ কাটতেও বড় ঝামেলা পোহাতে হয়।

 

তবে হ্যা,আর একটি ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, নখের কোনায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

 

৩.  তারপর নেইল কাটারের বিশেষ অংশ দিয়ে নখের ধারালো অংশ ঘষে নিন। বাজারে নেইল বাফার নামক নখ কোমলকারক যন্ত্র পাওয়া যায়। চাইলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন।

 

৪. এরপর পাত্রে আবার হালকা কুসুম গরম পানি নিন। তাতে কয়েক ফোটা শ্যাম্পু মেশান। এবার হাতের পাতা দুটি কয়েক মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এরপর উলের জালি দিয়ে হাত ও হাতের নখগুলো ঘষে নিন। এতে আপনার হাতের জীবানু ধ্বংস হবে, নখ কোমল হবে এবং ডেড সেলগুলো দূর হবে।

 

হাতের পাতার হলদেটে ভাবও চলে গিয়ে স্বাভাবিক রং ফিরে আসবে আর হাত হবে নরম ও কোমল।

 

আপনার ত্বক যদি বেশি শুষ্ক হয় তবে হাত বেশিক্ষণ ভেজানোর দরকার নেই।

 

৫.  এবার নখের উপর ও ধারালো অংশ পরিষ্কার করার জন্য নেইল কাটারের নখ পরিষ্কার করার অংশ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিন। এতে করে নখের হলদেটে ভাব দূর হবে এবং ধার চলে গিয়ে তা হবে কমনীয়।

 

৬. এরপর হাত শুকালে হাতে আগে ভালোভাবে টোনার মেখে নিন। তারপর হাতের পাতায় ভালো মানের ময়শ্চারাইজার লোশন ম্যাসেজ করে নিন।

ঘরে-বসে-মেনিকিউর
মেনিকিউর © pinterest

 

৭. আপনি যদি নেইলপলিশ পরতে পছন্দ করে থাকেন, তবে এখন আপনার হাতের নখগুলো পছন্দের রঙে আর পছন্দের ডিজাইনে সাজিয়ে ফেলুন। তবে নখে বেশি দিন নেইলপলিশ লাগিয়ে রাখবেন না। এতে আপনার নখের স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে হলদেটে হয়ে যাবে। আর নখ তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য হারাবে।

 

তাই নখে কিছুদিন নেইলপলিশ দিয়ে রাখলে তা ভালো মানের রিমুভার দিয়ে তুলে ফেলবেন,আর সপ্তাহ দশদিন নখে নেইলপলিশ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে নখের সুস্থতা বজায় থাকবে।

 

আরো পড়ুন : পেডিকিউর : ঘরে বসেই পায়ের যত্ন

 

সবগুলো পদ্ধতি পড়ার পর এখন আপনার কাছেই জিজ্ঞাসা করি মেনিকিউর কি খুব সহজ নয়?

উপরের টিপসগুলো মেনে নির্ভয়ে মেনিকিউর করুন আর হাত দুটি করে তুলুন কোমল ও আকর্ষনীয়।


This is a Bengali article on how to do manicure at home.

Reference-

1.10 Steps to the Perfect DIY At-Home Manicure | Glamour

2.How To Do A Manicure At Home

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...