গিউলিয়া তোফানা: ইতিহাসের কুখ্যাত মহিলা সিরিয়াল কিলার

সময় সতেরো দশকের মাঝামাঝি। যে সময়ে এসে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মারা যেতে শুরু করলেন ইতালির একের পর এক পুরুষ। শরীরে সেরকম কোনো রোগের উপসর্গ নেই। পেটে ব্যথা আর শরীর দূর্বল হয়েই মারা যাচ্ছেন তারা। কারণ কী? কেউই কিছু বলতে পারছে না।

গিউলিয়া তোফানা: ইতিহাসের কুখ্যাত মহিলা সিরিয়াল কিলার

সিরিয়াল কিলার বলতেই আমাদের চোখে নানারকম চেহারা ভেসে ওঠে। তবে ভেসে ওঠা চেহারাগুলো আঁতিপাঁতি করে খুঁজলেও কখনো নারীদের চেহারা খুব একটা আসেনা সেখানে। নারী আর সিরিয়াল কিলার… এক বিন্দুতে মেলানো একটু শক্তও বটে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত যে কয়জন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা নেহায়েতই কম না। এদের মধ্যেও একজন আছেন, যিনি সিরিয়াল কিলারদেরও অনুকরণীয় আদর্শ। নাম; গিউলিয়া তোফানা। তাকে নিয়েই আজকের এ উপাখ্যান।

 

আমাদের গল্পের প্রেক্ষাপট- ইতালি। সময় সতেরো দশকের মাঝামাঝি। যে সময়ে এসে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মারা যেতে শুরু করলেন ইতালির একের পর এক পুরুষ। শরীরে সেরকম কোনো রোগের উপসর্গ নেই। পেটে ব্যথা আর শরীর দূর্বল হয়েই মারা যাচ্ছেন তারা। কারণ কী? কেউই কিছু বলতে পারছে না। এবং কেনই বা শুধু পুরুষেরাই মারা যাচ্ছেন? সেটাও অজানা। সে সময়কার তাবড় তাবড় পুলিশ, গোয়েন্দা, গবেষকেরা নেমে পড়লেন মাঠে। চিরুনিতল্লাশি হলো বিস্তর। তল্লাশির এক পর্যায়ে জানা গেলো অদ্ভুত তথ্য। গিউলিয়া তোফানা নামের এক বিধবা মহিলা এই পুরুষদের মৃত্যুর কারণ। কীভাবে? সেটাই জানাবো এই নিবন্ধনে। কিভাবে গিউলিয়া তার জীবদ্দশায় ছয়শোরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হলেন, জানাবো সে অদ্ভুত রোমাঞ্চকর ঘটনাটিও। কেন ইতিহাস গিউলিয়া তোফানাকে বলছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার, সেটিও থাকবেনা অজানা। 

জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো

গিউলিয়া তোফানার জন্ম কোথায়, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে প্রচুর দ্বিমত, ত্রিমত, বহুমত আছে। কেউই আসলে নিশ্চিত না, তোফানার জন্ম ঠিক কোথায়৷ তবে ধারণা করা হয়, ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের পালেরমো শহরে তিনি আনুমানিক ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। খুব অল্পবয়সেই বাবাকে হারান। জানা যায়, গিউলিয়ার মা থোফানিয়া ডি আদেমো, গিউলিয়ার বাবাকে হত্যা করেছিলেন। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েই তিনি স্বামীকে নিকেশ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে মতামত অনেক ইতিহাসবিদের। পরবর্তীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে থোফানিয়া ডি আদেমো’কে অবশ্য মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছিলো। তবে সে আলোচনায় আমরা পরে যাবো। আপাতত গিউলিয়ার শৈশবেই থাকি। যা বলছিলাম, বাবার মৃত্যুর পরে মায়ের সাথেই গিউলিয়া আস্তে আস্তে বড় হতে থাকেন। গিউলিয়ার মায়ের ছিলো রমরমে মেকআপের বিজনেস। সেই বিজনেসেও টুকটাক কাজ করা শুরু করেন গিউলিয়া, মায়ের সহকারী হিসেবে।

 

এখানে শিউরে ওঠার মতন একটি তথ্য অথবা টুইস্ট হচ্ছে, মেকআপের বিজনেসের আড়ালে গিউলিয়ার মায়ের ছিলো বিষের ব্যবসা। ধারণা করা হয়, গিউলিয়ার মা অনেক পুরুষকে হত্যাও করেছিলেন এই বিষের মাধ্যমে, তার জীবদ্দশায়। স্বামীকে হত্যার অপরাধে যখন গিউলিয়ার মাকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ এবং পরে দেয়া হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, মায়ের অবর্তমানে গিউলিয়া তখন মায়ের ব্যবসার হাল ধরে পুরোপুরি। এবং সেই সাথে বিষের ব্যবসারও।

মায়ের হাত ধরেই বিষের ব্যবসায় পা রাখে গিউলিয়া ; source: itsblossom

 

বিষ্ময়করবিষের ব্যবসা

গিউলিয়ার এবং তার মায়ের বিষের ব্যবসা নিয়ে কথা বলার আগে, আমাদের একটু চোখ রাখতে হবে সেসময়ের ইতালির সামাজিক অবস্থার দিকে। কোনো একটি অপরাধের উৎপত্তির পেছনে পরিবেশ, সমাজ, ভূগোলের বেশ নিবিড় এক যোগ থাকে। সেটা আমরা সবাই-ই জানি। সেসময়কার ইতালীর ক্ষেত্রেও আমরা সেটাই লক্ষ্য করবো। আমরা ইতালির যে সময়ের কথা বলছি, সে সময়টা ছিলো সপ্তদশ শতাব্দী, রেনেসাঁর সময় তখন। ইতালিতে পুরুষেরাই তখন সর্বেসর্বা। ইতালির সমাজব্যবস্থাও তখন ছিলো পুরোপুরিভাবে পুরুষতান্ত্রিক। পুরুষদের বাইরে নারীদের একটি শব্দ উচ্চারণ করারও অধিকার ছিলো না। তারা ছিলেন স্বামীদের পণ্য। স্বামী যেভাবে খুশি তাকে ব্যবহার করতে পারতেন। ইচ্ছে হলে, ছুঁড়েও ফেলে দিতে পারতেন। কারো কিছু বলার থাকতো না। সে সমাজে বিবাহ-বিচ্ছেদেরও কোনো প্রচলন ছিলো না। মানে দাঁড়াচ্ছে, স্বামী যতই পশুর মতন ব্যবহার করুক না কেন, অত্যাচার করুক না কেন, তাকে ত্যাগ করা যাবে না। নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার… চোখ বুজে সহ্য করতে হবে। স্বামী যদি স্ত্রীকে মেরেও ফেলে, হবেনা কোনো শাস্তির আদেশ। এভাবেই চলছিলো।

 

এরকম যদি অবস্থা হয় কোনো একটি সমাজের, তখন সে সমাজের নারীরা কী করবে? কীভাবে তারা বাঁচবে? আস্তে আস্তে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছিলো তাদের। গিউলিয়ার মা তো ঠিক এ কারণেই হত্যা করেছিলেন তার স্বামীকে, স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে। পরবর্তীতে গিউলিয়া মায়ের ব্যবসার হাল ধরতে এসে বুঝতে পারেন, চাইলে বিষ নিয়েই এখন দেদারসে ব্যবসা করা যাবে। মহিলারা এমনিতেই অত্যাচারে জর্জরিত। তাদের সামান্য একটু মগজধোলাই করে বিষ গছিয়ে দিতে পারলেই কেল্লাফতে।

 

গিউলিয়া এজন্যেই শুরু থেকে সাবধানে এগোনো শুরু করলেন। বিষ বিক্রি করতেন, কিন্তু যার তার কাছে না। তিনি বেছেবেছে তাদের কাছেই বিক্রি করতেন, যারা স্বামীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। যারা তাদের স্বামীকে বিন্দুমাত্রও আর ভালোবাসেনা। কোনো প্রোডাক্ট সেল করার আগে যেমন মার্কেট অ্যানালাইসিস করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, গিউলিয়া ঠিক সেভাবেই স্টাডি করে, টার্গেট অডিয়েন্স ফিক্স করে এরপর নিপীড়িত মহিলাদের মাঝে গোপনে এই বিষ বিক্রি করা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে তার বিষের বিক্রি ক্রমাগত বাড়তে থাকলো। রমরমা ব্যবসা শুরু হলো বছরখানেকের মধ্যেই।

 

পুরুষদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ নারীরা কিনতে লাগলো বিষ; source: syfy

 

বর্ণচোরা বিষের পেয়ালা

এতক্ষণ যে বিষ নিয়ে কথা বললাম, সে বিষের নামকরণ করা হয়েছিলো গিউলিয়ার নামানুসারেই; অ্যাকুয়া তোফানা। যদিও এ বিষের মেইন রেসিপি কার মস্তিষ্কজাত, এটা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক আছে। কোকাকোলার মেইন রেসিপি কার, সেটা নিয়ে যেমন প্রচুর তর্কবিতর্ক বাজারে চাউর আছে, এও অনেকটা সেরকম। অনেকেই বলেন, গিউলিয়ার মা এটা নিজে নিজে আবিষ্কার করেছেন। অনেকেই বলেন, গিউলিয়া তার মায়ের কাছ থেকে যে রেসিপি পেয়েছিলেন, সেটির সাথে সে আরো কিছু কেমিক্যাল মিশিয়ে বিষটিকে আরো কর্মক্ষম  করে তোলেন। আবার অনেকেই বলেন, কোনো একটি অজ্ঞাত ফার্মেসী থেকে এই রেসিপি পেয়েছেন গিউলিয়া।

তবে আসল সত্য যেটিই হোক, পরবর্তীতে ব্যাপক গবেষণার পরে অ্যাকুয়া তোফানায় ব্যবহৃত বেশ কিছু উপাদানকে শনাক্ত করতে পারা যায়। অ্যাকুয়া তোফানা’তে পাওয়া যায় আর্সেনিক, বেলাডোনা, কোচিনিয়াল এর উপস্থিতি। এইসব পদার্থের সাথে আরো কিছু গোপন জিনিস মিশিয়ে গিউলিয়া তৈরি করতেন এ বিষ৷ এই বিষ ছিলো বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এক তরল। যেটিই ছিলো এ বিষের সবচেয়ে বড় ইউএসপি।

 

কীভাবে গিউলিয়া এই বিষ বিক্রি করতেন, সেখানেও রয়েছে এক অভিনব চমক। আগেই বলেছি, তিনি মেকাপের বিজনেস করতেন। যারা তার কাছ থেকে মেকআপ বক্স কিনতে আসতেন, তাদের সেই মেকআপ বক্সে সাজসজ্জার অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি তিনি ছোট এক শিশি অ্যাকুয়া তোফানোও দিয়ে দিতেন। সেই বোতলের উপরে থাকতো সেইন্ট নিকোলাসের ছবি। মানুষ ভাবতো, এটা সম্ভবত পূতপবিত্র কোনো তরল। তাই সন্দেহের অবকাশ ছিলো না। কেউ বোতলটিকে ঘাঁটাতোও না। যে সময়ের কথা বলছি, ইতালির মানুষ তখন অনেকটাই ধার্মিক ছিলেন। এভাবেই ধর্মের মোড়কে মেকআপের বক্সে চালান হয়ে যেতো বিষ।

 

যেসব মহিলারা তাদের স্বামীকে খুন করতে চাইতেন, তারা স্বামীর স্যুপ, পানি অথবা শরবতের মধ্যে তিন থেকে চার ফোটা অ্যাকুয়া তোফানা ঢেলে দিতেন। সেই বিষমিশ্রিত তরল খাবার খেয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মারা যেতেন স্বামী। ময়নাতদন্তে এই বিষের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যেতো না মানবদেহে। অর্থাৎ সন্দেহের কোনো কারণই ছিলো না কারো। সাপও মরতো, লাঠিও থাকতো অক্ষত।

 

গিউলিয়া এভাবে টানা বিশ বছর ধরে এই অ্যাকুয়া তোফানা বিক্রি করেছেন। এই বিষের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ছয়শোরও বেশি পুরুষ!

অ্যাকুয়া তোফানার বোতল; source: Wikipedia

 

তাসের ঘরের সাম্রাজ্য

গিউলিয়া টানা বিশ বছর ধরে বিষের ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। কেউ কিছু জানতেও পারছিলো না। খুব গোপনেই চলছিলো সব কাজ। যদিও মানুষের এরকম রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা সহ সংশ্লিষ্টরা একটু বিচলিত হয়ে উঠেছিলো, কিন্তু সন্দেহভাজন কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিলো না তাদের পক্ষে। তবে অনুসন্ধান চলছিলো। বেশ জোরেসোরেই।

 

এরকমই এক সময়ে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন গিউলিয়ার এক ক্রেতা। তিনি স্বামীর উপর বিরক্ত হয়ে কিনে নিয়েছিলেন এক শিশি অ্যাকুয়া তোফানা। এই বিষ মিশিয়ে বিষমিশ্রিত স্যুপ যখন তিনি তার স্বামীকে খেতে দিলেন, হুট করেই মহিলার মন দূর্বল হয়ে গেলো। স্বামীর উপর ভালোবাসা আবার ফিরে এলো তার। স্বামীকে স্যুপ খেতে বাধা দিলেন তিনি। স্বামীর সন্দেহ হলো। জিজ্ঞেস করলেন, কী আছে এই স্যুপে? স্ত্রী প্রথমে কিছু না জানালেও স্বামীর অত্যাচারের মুখে একসময়ে স্বীকার করলেন অ্যাকুয়া তোফানার কথা। গিউলিয়ার ব্যবসার কথাও জানালেন। গিউলিয়াকে ধরার জন্যে তখন ছুটলো পুলিশ।

 

এদিকে এসব তথ্য জানতে পেরে গিউলিয়া তার মেয়েকে নিয়ে ততক্ষণে আশ্রয় নিয়ে নিয়েছেন এক গির্জায়। গির্জায় সরাসরি ঢোকা পুলিশের পক্ষে একটু অসুবিধাজনক ছিলো। তাছাড়া গিউলিয়ার সাথে প্রভাবশালী কিছু মহলেরও বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো, তাই পুলিশের পক্ষে গিউলিয়াকে প্রথমেই গ্রেফতার করা সম্ভব হলো না।

 

কিন্তু এরইমধ্যে রটে যায় আরেক গুজব। বলা হয়- রোম ও তার আশেপাশের এলাকার পানিতে অ্যাকুয়া তোফানা মিশিয়ে রেখেছে গিউলিয়া। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবার পুলিশের হাতে আর কোনো উপায় না থাকায়, গিউলিয়াকে গ্রেফতার করে তারা৷

 

এরপর পুলিশের দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গিউলিয়া স্বীকার করেন সব। গিউলিয়া, তার মেয়ে ও আরো তিনজন মহিলা, যারা এই ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং খুব অল্পদিনের মধ্যে সে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও করা হয়।

 

এভাবেই ইতিহাসের অন্যতম এক কুখ্যাত সিরিয়ালের জীবন-আলেখ্যে নেমে আসে দাড়ি।

জনসম্মুখে কার্যকর করা হয় গিউলিয়ার মৃত্যুদণ্ড; source- Mikedashhistory

 

শেষকথা

গিউলিয়া তোফানা ঠিক কী ভুল, সে প্রসঙ্গে যাওয়া ঠিক হবে না৷ কারণ, যে সময়ের প্রেক্ষিতে তিনি এই ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন, সে সময়ে নারীরা ছিলেন তুমুল নিপীড়িত। রীতিমত বাধ্য হয়েই তারা খুঁজেছিলেন নিজেদের মুক্তির উপায়। যেটি তারা পেয়েছিলেন গিউলিয়া তোফানার কাছ থেকে। সুতরাং গিউলিয়ার তোফানার কাজটিকে মোটাদাগে বিশ্লেষণ করা একটু দুরূহই হয়ে যায়। তবে এটাও ঠিক, তিনি তার এই কুখ্যাত কাজের কারণেই এখনো অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তার ‘অ্যাকুয়া তোফানা’ তো বিশ্বখ্যাত এক ব্রান্ডই হয়ে গিয়েছে কালের বিবর্তনে।বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ মোজার্ট যেমন তার মৃত্যুশয্যায় বলে গেছিলেন, আমাকে হয়তো কেউ অ্যাকুয়া তোফানা খাইয়েছে। এরকম অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকেই। সক্রেটিসের মৃত্যু হয়েছিলো হেমলক পানে। সক্রেটিসের মৃত্যুর পরেই হেমলক এত বেশি জনপ্রিয় হয়ে যায়। আবার গিউলিয়ার মৃত্যুর পরে জনপ্রিয় হয় ‘অ্যাকুয়া তোফানা। শুধু জনপ্রিয়ই না, এই বিষ নিয়ে আলোচনা হয় এখনও। এই বর্তমান শতাব্দীতে এসেও। 

মোজার্টের মৃত্যুও অ্যাকুয়া তোফানায়!; source- Britannica

 

তবে গিউলিয়ার জীবন-গল্প যদি কেউ ভালোভাবে খেয়াল করেন, দেখবেন, এ গল্পে শেষপর্যন্ত একটা শব্দই বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ভালোবাসা। ভালোবাসার অভাবে যে বিষের জন্ম, সেই ভালোবাসার কারণেই মৃত্যু হয়েছিলো এই বিষের। অদ্ভুত না!

এভাবেই ভালোবাসা-ঘৃণা-বিশ্বাস-অবিশ্বাসের অমৃত আর হলাহল বিষে আলোচনার মধ্যমণি হয়ে বরাবরই চলে আসেন গিউলিয়া। যিনি ছিলেন ঠাণ্ডা মেজাজের কৌশলী এক সিরিয়াল কিলার। যিনি ছিলেন ধীরস্থির এক খুনী৷ অথবা, যিনি ছিলেন কিছু নারীর বেঁচে থাকার সংযোগ-সেতুও।

সঠিক উত্তর কে-ই বা জানে!


This Bangla Article is about one of the heinous lady serial killers of all time, Giulia Tofana

Reference:

1. Meet the woman who poisoned Makeup To Help Over 600 Women to Murder Their Husband

2. Giulia Tofana: Queenpin of the Criminal Magical Underworld

3. Giulia Tofana, The Italian Serial Killer, Who Became a Legend

4. Aqua Tofana: Slow Poisoning and Husband Killing in 17th Century Italy 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...