তুর্কী ড্রামা ‘কুরুলুস উসমান’-এর দুর্ধর্ষ পাঁচজন নারী চরিত্র

উসমানী খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজির জীবনীকে ঘিরে নির্মিত কুরুলুস উসমান ড্রামা সিরিজটি বিশ্ব দরবারে ব্যাপাক আলোচিত ও পাশাপাশি সমালোচিতও।

তুর্কী ড্রামা ‘কুরুলুস উসমান’-এর দুর্ধর্ষ পাঁচজন নারী চরিত্র

 

ইতিহাস নির্ভর বিখ্যাত ড্রামা সিরিজ “কুরুলুস উসমান”। উসমানী খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজির জীবনীকে ঘিরে নির্মিত কুরুলুস উসমান ড্রামা সিরিজটি বিশ্ব দরবারে ব্যাপাক আলোচিত ও পাশাপাশি সমালোচিতও।

 

তরুণ প্রজন্মের সামনে সত্যিকারের বীরযোদ্ধাদের তুলে ধরার এই প্রয়াসকে তুর্কি সরকারও সাধুবাদ জানাতে ভোলেন নি। এতে পুরুষ যোদ্ধাদের অনেক কথা উঠে এসেছে, উসমান, বামসি বেরেক, আব্দুর রহমান গাজি, বোরহান আল্প, সহ আরও অনেক চরিত্র।

 

কিন্তু পাশাপাশি আছে দুর্ধর্ষ কিছু নারী চরিত্র। যারা নারী হয়েও কাঁপিয়েছে ঢাল তলোয়ারের কোপে দুশমনের কলিজা। হয়তো তারা উসমান গাজির পক্ষে যুদ্ধ করেছে, নয়তো করেছে বিপক্ষে।

 

এমনি পাঁচজন দুর্ধর্ষ নারীকে এই লেখায় তুলে আনতে যাচ্ছি, যাদের নায়িকা বলা উচিত। আবার কিছু চরিত্রকে খল নায়িকাও বলা যায়-

 

১. সেলচান হাতুন

সেলচান হাতুন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। এই চরিত্রটি শুধু তুর্কি ড্রামা সিরিজ “কুরুলুস উসমান” এরই নয় বরং তুর্কি জাতির ইতিহাস ও কিংবদন্তি জুড়েও এর ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। যেহেতু ড্রামা সিরিজ “কুরুলুস উসমান” নিয়ে কথা হচ্ছে সেহেতু শুরুতেই তুলে ধরি ড্রামা সিরিজের এই চরিত্রের বিশ্লেষণ।

 

সেলচান হাতুন হচ্ছে আর্তুগ্রুলের পিতা সুলেমান শাহের পালিত মেয়ে। পরবর্তীতে তার বিয়ে হয় আর্তুগ্রুলের বড় ভাই গুন্দোগদোর সাথে। প্রথমে তাকে একজন খলচরিত্র হিসেবে দেখানো হয়, তিনি তার স্বামী গুন্দোগদোকে তার শ্বশুর সুলেমান শাহ এর জায়গায় বসিয়ে তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে তৎপর হন। আর এজন্য এমন কোন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র নেই, যার আশ্রয় তিনি নেন নি। সব রকম চক্রান্ত করে একটা সময় তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং পরবর্তীতে আন্দালুসিয়া থেকে আসা এক দরবেশ ইবনে আরাবির সান্নিধ্যে আসেন।

 

এরপর তাকে অতীত ভুল গুলোর জন্য  সবার সামনে স্বীকারোক্তি মূলক ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। এবং সেদিন থেকে তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে তার গোষ্ঠীর জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে।

কুরুলুস-উসমান
শহীদের স্ত্রী, শহীদের জননী, কাই গোষ্ঠীর সেলচান হাতুনের চিত্র। Source: Pinterest.

 

কুরুলুস উসমান ড্রামা সিরিজে সেলচান হাতুনকে আর্তুগ্রুলের ছেলে ওসমানের চাচীমার ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়। এখানে অন্যায়কে কখনো প্রাধান্য না দেওয়াই তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উসমানের মা হালিমা সুলতানের অকাল মৃত্যুর জন্য মাতৃহীন উসমান গাজিকে কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দেন নি। এজন্যই সবার শ্রদ্ধার একটা বড় জায়গা দখল করে রাখে সেলচান।

 

সেলচানের চরিত্রটি কেমন, এ সম্পর্কে জানতে হলে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে, ইসলামের ইতিহাসের আবু সুফিয়ান রাঃ এর স্ত্রী হিন্দা রাঃ এর উদাহরণ। যিনি বদরের ময়দানে হামজা রাঃ এর কলিজা চিবিয়েছিলেন, আবার ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলমানদের পশ্চাদপসরণ হতে বাঁধা দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ফিরে যেতে বাধ্য করে, মুসলমানদের ইয়ারমুক জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন।

 

সেলচান হাতুন তুর্কি কিংবদন্তিরও একটা বিখ্যাত চরিত্র। “দ্য বুক অফ ডিডি কুরকুত” নামের বইতে সেলচানকে দুই জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, তুর্কির এক কিংবদন্তিতে বলা আছে। এই কিংবদন্তি অনুযায়ী সেলচান হাতুন “তারাবজান তাকফির” নামক গোষ্ঠীর প্রধাণের কন্যা ছিলো। সে ছিল সাহসী, সুদর্শন, ও বুদ্ধিমতি। তাদের কিছু দূরের বসতির কান তুরালি নামক এক যোদ্ধা সেলচানকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তার পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়।

 

সেলচানের পিতা জানায় তার মেয়েকে পাহারা দেয় একটা বিশাল উট, একটা বাঘ ও একটা হাতি। যে কেউ এই তিন প্রাণীকে হত্যা করতে পারবে তার হাতেই তিনি তার মেয়েকে তুলে দিবেন৷ তখন সেই সাহসী যুবক সেই তিন প্রাণীকে হত্যা করলে সেলচানের বাবা তার মেয়েকে সেই বীরের সাথে বিয়ে দেয়। যখন সেলচান সেই যুবকের সঙ্গে তার বসতির পথে তখন সেলচানের পিতা অনুধাবন করেন তার মেয়েকে তিনি আরও ভালো কোথাও বিয়ে দিতে পারেন।

 

তখন তিনি তার লোক পাঠান সেই যুবককে হত্যা করে সেলচানকে ফিরিয়ে আনতে। লোকজন তাদের পিছু নিয়ে সেলচানের স্বামীর উপরে হামলা করলে সেলচান তা প্রতিহত করে। পরে তারা দুজনে সেই লোকদের হত্যা করে বসতিতে চলে আসে। 

 

“দ্য বুক অফ ডিডি কুরকুত” বইতে বলা হয় যে সেলচান নামের আরও একটা চরিত্র সত্যিই ইতিহাসে ছিলো। আমরা যারা ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করি তারা জানি সেলজুক সুলতান আল্প আরসালানের কথা। ইতিহাসের সেই সেলচান হচ্ছেন সুলতান আল্প আরসালানের স্ত্রী।

 

সেলচান আর আল্প আরসালানের একটা পুত্র সন্তান হয়, যিনি পরবর্তীতে সেলজুক সিংহাসনে আরোহন করেন। তিনিই হলেন সুলতান মেলিক শাহ। সুলতান আল্প আরসালানের মৃত্যু হয় অনেক কম বয়সে৷ তখন তার সন্তান মেলিক শাহ ক্ষমতায় আসলে মেলিক শাহের পরামর্শে সেলচান তার দেবর কারগাত বেকে বিয়ে করেন। যেন সন্তানের সিংহাসন নিরাপদ থাকে আর কোন বিদ্রোহ না হয়৷

 

দিরিলিস আর্তুগ্রুল বা কুরুলুস উসমান ড্রামা সিরিজে সেলচানকে দেখানো হলেও তাদের কারো সাথে ইতিহাসের সেলচানের কোন যোগসূত্র ছিলো না। শুধুমাত্র ইতিহাসের একজন বিখ্যাত চরিত্রের সাথে পরিচয় করানোর জন্যই এই ড্রামার সেলচানের আগমন। যদিও ড্রামা সিরিজে তাকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হিসেবেও দেখানো হয়। তলোয়ারবাজি আর তীরন্দাজিতে মাহির একটা চরিত্র যে তাঁর বার্ধক্যের এক পর্যায়ে দরবেশ শেহ এদেব আলীর কাছে নিজেকে “শহীদের স্ত্রী, শহীদের জননী, কাই বসতির সেলচান হাতুন” বলে পরিচয় দেয়। যে নিজের আসল পিতার চেয়ে পালিত পিতার পরিচয় তথা “সুলেমান শাহের মেয়ে সেলচান হাতুন” বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতো। সময় মানুষকে পালটে দেয় ঠিকই।

 

২. বালা হাতুন

বালা হাতুনের পরিচয় সে উসমান গাজির সহধর্মিনী ছিলেন। এছাড়া বালা হাতুন হচ্ছে দরশবেশ শেহ এদেব আলীর কন্যা। “দিরিলিস আর্তুরুল” ড্রামা সিরিজে ইবনে আরাবীকে দেখা যায় আর্তুরুলের গুরু হিসেবে তাকে নানা ভাবে দিক নির্দেশনা দিতে, উৎসাহ উদ্দিপনা তৈরি করতে। তেমনি “কুরুলুস উসমান” ড্রামাতেও বালা হাতুনের পিতা দরবেশ এদেব আলীও উসমানের গুরু এবং উৎসাহ দাতা হিসেবে দেখা যায়। তার কন্যা বালা হাতুনকেও উসমানের সাথে বিয়ে দেন।

 

বালা হাতুন খুবই বুদ্ধিমতি নারী ছিলো। সেই সাথে দক্ষ যোদ্ধাও। যখনই তার তলোয়ার খাপ ছাড়া হত তখনই দুই চারজন দুশমনের ধর থেকে মাথা আলাদা হয়ে যেত আবার কখনো সিনা চিরে কলিজা বেরিয়ে আসতো। বালা হাতুন ছিল খুবই চতুর শৃগালের ন্যায়। তিনি শত্রুদের এলাকায় ছদ্মবেশ নিয়ে প্রবেশ করে মুসলিমদের কাছ থেকে লুট করা সম্পদ তাদেরই চোখে ধুলো দিয়ে নিয়ে এসেছে। কখনো তাকে একসাথে দশ বারোজন যোদ্ধার সাথে লড়তে দেখা গিয়েছে, কখনো বা প্রিন্সেস সোফিয়ার মত কুখ্যাত নারীর সাথে। কিন্তু কখোনই তাকে পরাজয়ের ভীতি তাড়া করেনি।

 

কুরুলুস-উসমান
দরবেশ কন্যা বালা হাতুনের চিত্র। যে শুধু একজন প্রেমময়ী রমনী নয়, একজন দক্ষ যোদ্ধাও ছিলো। image Source: Pinterest.

 

বালা হাতুন শুধু সাহসী আর দক্ষ যোদ্ধা ছিল তা নয়। সে ছিলো সুন্দরী ও শিক্ষিতা। এদেব আলীর মত একজন আলেমের কন্যা হবার সুবাদে তিনি ছিলেন ধর্মিয় জ্ঞানের আঁধারও। গাজী আর্তুরুলের বীর সন্তান গাজি উসমানের সহধর্মিণী হিসেবে এজন্যই যোগ্যতার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বালা হাতুন। তার খুনি মুচকি হাসির মায়ায় তিনি খুবই দক্ষতার সাথে ঘায়েল করেছে উসমানের মন। একজন নারীর, বা মুসলিম নারীর সব ধরনের যোগ্যতা তার মধ্যে বিদ্যমান দেখানো হয়েছে।

 

আরো পড়ুন সুলতানা রাজিয়া: ত্রিভুজ প্রেমের উপাখ্যানেই কি হারিয়েছিলেন দিল্লির রাজত্ব?

 

৩. গনজা হাতুন

ড্রামা সিরিজ “কুরুলুস উসমান” এর আরেকটি বিপদজনক ও দুর্ধর্ষ নারী হচ্ছে গনজা হাতুন। গনজা হাতুন হচ্ছে বালা হাতুনের খুবই কাছের বান্ধবী৷ সেহেতু বুঝাই যাচ্ছে এই মেয়েটিও যুদ্ধবিদ্যায় যথেষ্ট পারদর্শী হবে। আসলেই তাই। গনজা হাতুন একটা মাত্র খঞ্জর দিয়েই কুপোকাত করে দিতো একদল শত্রুকে। কখনো বাড়ির ঝি, কখনোবা চার্চের নান, কখনো দাসি, ছদ্মবেশ নিতে এই মেয়েটির জুড়ি মেলা ভার। সাহসী, সুন্দরী, বুদ্ধিমতি, সব মিলিয়ে যা হয় গুনজা হাতুন ছিলো তাই।

কুরুলুস-উসমান
এক খঞ্জরেই শত্রুর বক্ষ এফোড় ওফোড় করে দিত সেই নির্ভীক রমনী, গনজা হাতুন। Image source : Pinterest

 

গনজা হাতুন সব সময় বালা হাতুনকে আগলিয়ে রাখতো। কোন শত্রুর পেছনে বালা হাতুনকে যেতে দেখলে গনজা হাতুনও তাদের পিছু নিত এবং বালা হাতুনকে আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিত। এই দুর্ধর্ষ হাতুনও এক সময় প্রেমে পড়ে। উসমান গাজির সবচেয়ে বিশ্বস্ত আল্প, বুরহান আল্পের প্রতি তার হৃদয় বিগলিত হতে শুরু করে। সারাটা জীবন শত্রুর রক্ত ঝড়িয়ে এই হাতুন শেষ পর্যন্ত বুরহান আল্পের বীরত্বের কাছে হার মেনে নেয়৷ এই দুজনের জুটি খুবই মিষ্টি একটা অনুভূতি দান করে দর্শকদের। যোদ্ধার জীবন সাথি হিসেবে একজন দক্ষ যোদ্ধাই প্রয়োজন পড়ে।

 

৪. প্রিন্সেস সোফিয়া

উসমানী খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজির রক্তপিপাসু এক দুর্ধর্ষ নারী চরিত্র হচ্ছে প্রিন্সেস সোফিয়া। সর্পিল চোখের অধিকারী এই নারী হচ্ছে বাইজেন্টাইন শাহাজাদী। ইতিহাসের শেষ দুই জন বাইজেন্টাইন সম্রাট জন সেভেন এবং কন্সটার্ন্টিনোপল ফোরটিনের ভাতিজি ছিলেন। তার বাবা থমাসও একজন শাসক ছিলেন। এবং মস্কোর গ্রান্ড প্রিন্স ইভান থার্ড এর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। প্রিন্সেস সোফিয়া ১৪৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

 

রাশিয়ানরা “সোফিয়া” নামের একটা ড্রামা যা ২০১৬ সালে মুক্তি পায় সেখানে একবার এই শেষ বাইজেন্টাইন প্রিন্সেসকে দেখানো হয়েছিলো। বর্তমানে কুরুলুস উসমানে এই চরিত্রকে আবারও দেখানো হয় কুচক্রি এই নারীর কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিতে।

তুর্ক মুসলমানদের রক্ত পিপাসু বাইজেন্টাইনের সর্বশেষ শাহাজাদী সোফিয়া। Image source : Pinterest

 

ড্রামা সিরিয়ালের শুরুতে সোফিয়াকে খুবই শান্ত এবং সৌন্দর্যের আঁধার হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এই নারীর বিষাক্ত বিষক্রিয়া বেরিয়ে আসে। তার পিতার চক্রান্তকে বাস্তবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সে উসমানের সঙ্গে শত্রুতা বাড়ানো শুরু হয়। উসমান এবং মুসলমানদের উপরে সোফিয়ার বারংবার আক্রমণ মুসলিম বাহিনীর অনেক ক্ষতির কারণ হয়। প্রিন্স স্যালভাডোর যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তা জানামাত্র সোফিয়া তার বিষাক্ত খঞ্জর দিয়ে প্রিন্স স্যালভাডোরকে আক্রমণ করে উসমানের বসতিতে পাঠিয়ে দেয়, বসতিতে ফিরে স্যালভাডোর কালিমা পড়তে পড়তে শাহাদাত বরণ করে নেয়।

 

এছাড়া বামসি আল্পের ছেলে আইবার্স যে উসমানের খুবই ঘনিষ্ঠ তারও হত্যার পেছনে রয়েছে সোফিয়ার হাত ছিলো। যখন প্রিন্স স্যালভাডোর ইসলাম কবুল করেন নি তখন সোফিয়া প্রিন্সকে উসমান আর আইবার্সকে হালমা করতে পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই এই দুর্ধর্ষ নারী একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ড্রামা সিরিজে নিজের কুখ্যাতি বাড়িয়েছে।

 

৫. এইগেল হাতুন

এইগেল হাতুন ছিলো উসমান গাজির চাচা দুন্দার বের মেয়ে। তখনকার কাই বসতির সবচেয়ে অভিজ্ঞ তীরন্দাজ নারী ছিলো এইগেল। তখনকার সময়ে তার সমকক্ষ কোন পুরুষও ছিলো না। সাহসী এই নারী তার চাচাতো ভাই উসমানের প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু উসমান আর বালা হাতুনের ঘনিষ্ঠতা তাকে কষ্ট দিতে থাকে। কিন্তু এই হিংসা খুবই দ্রুত শত্রুতায় পরিণত হয়। মোঙ্গলদের সঙ্গি এবং সেলজুক গভর্নর আলিসার বে এই গুজব ছড়িয়ে দেয় যে, এইগেল হাতুনের ভাই বাতুরকে উসমান হত্যা করেছে। তখন এইগেল হাতুন আলিসার বেকে বিয়ে করে নেয় এবং তার মায়ের ঘৃণ্য চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ে।

 

এই ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তে এই দুর্ধর্ষ নারী উসমান গাজির অনেক ক্ষতি করে দেয়। কিন্তু এক পর্যায়ে সে আসল সত্য জানতে পারে যে তার ভাই বাতুরকে উসমান নয়, বরং আলিসার বে হত্যা করেছিলো। এই ঘটনা এইগেল হাতুনের মত সাহসী নারীকে স্তব্ধ করে দেয়। সে তার স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে না পেরে এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

কুরুলুস-উসমান
এইগেল হাতুন, উসমান গাজির চাচা দুন্দার বের মেয়ে; image source: pinterest

 

এই ছিল বিখ্যাত ড্রামা সিরিজ কুরুলুস উসমান এর পাঁচজন যোদ্ধা নারী। যাদের কেউ কেউ উসমানের রক্তপিপাসু হয়ে ওঠে। আর কেউ কেউ উসমানের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।


This is a Bengali article about ‘5 female characters of Kurulus Osman ‘.

Referrence:

Kurulus Osman

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...