উইন্ডোজ ১০ একটিভ করার নিয়ম

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাক্টিভেশনটি এর আগে যদি করা হয়ে থাকে তাহলে প্রডাক্ট কি-টি আবার প্রেস করেই সক্রিয় করা যেতে পারে অপারেটিং সিস্টেমটি

উইন্ডোজ ১০ একটিভ করার নিয়ম

নিজের কম্পিউটারটি দ্রুতগতির সুবিধা আর আপডেটেড থাকুক তা কে না চায়। আর আপনার কম্পিউটারে যদি আপনি নিজে গ্রাফিকস কার্ড আর প্রসেসর ইন্সটল করে থাকেন বা কম্পিউটারটি আপডেট করেছেন আরও আপডেটেড প্রসেসর আর স্পিডের আশায় থাকেন, তাহলে আপনি নিজের এই আধুনিক কম্পিউটারটিতে নতুন উইন্ডোজ ১০ অবশ্যই ইন্সটল করতে চাইবেন। 

বর্তমানে বেশিরভাগ হাই রেঞ্জের ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ প্রি-ইনস্টল করা থাকে৷ তবে আপনি যদি নিজের পার্সোনাল কম্পিউটারটি গ্রাফিকস কার্ড আর প্রসেসর দিয়ে নিজেই সাজিয়ে নিবেন বলে ভেবেছেন বা আরও স্পিডের জন্য কম্পিউটার আপডেট করবেন বলে চিন্তা করছেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে নিজেই ইন্সটল এবং অ্যাক্টিভেট করে নিতে হবে এই আপ টু ডেট অপারেটিং সিস্টেমটি। 

 

উইন্ডোজ-১০-একটিভ
উইন্ডোজ ১০ একটিভ করার নিয়ম  ©How To Geek

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাক্টিভেশনটি এর আগে যদি করা হয়ে থাকে তাহলে প্রডাক্ট কি-টি আবার প্রেস করেই সক্রিয় করা যেতে পারে অপারেটিং সিস্টেমটি। আর আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ লাইসেন্সটিকে আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত করে সক্রিয় করেন, একই ডিভাইসে অ্যাক্টিভেশনটি ডিজিটাল লাইসেন্সের সাহায্যে সহজেই করা যেতে পারে।

প্রডাক্ট কি বা ডিজিটাল লাইসেন্সের সাহায্যে উইন্ডোজ ১০ প্রসেসর সক্রিয় করতে নিচের উল্লেখিত সহজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে সহজেই আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নিন এই প্রসেসরটি। 

উইন্ডোজ-১০-একটিভ
উইন্ডোজ ১০ একটিভ করার নিয়ম © Windows Central

আরও পড়ুনঃ কম্পিউটারের মৌলিক অংশ গুলো সম্পর্কে জানেন তো?

১ম সেকশন

প্রডাক্ট কি দ্বারা উইন্ডোজ ১০ এক্টিভেশনের নিয়ম : 

  • ১ম ধাপ: উইন্ডোজ ১০ এক্টিভেট করতে প্রথমে আপনার প্রডাক্ট লাইসেন্স কি টি প্রবেশ করান।
  • ২য় ধাপ: কিবোর্ডের উইন্ডোজ কি টি চাপুন, তারপর সেটিংসে যান > আপডেট এন্ড সিকিউরিটি > এক্টিভেশন
  • ৩য় ধাপ: চেইঞ্জ প্রডাক্ট কি টি চাপুন 
  • ৪র্থ ধাপ: পপ আপ বক্সটিতে নিজের প্রডাক্ট কি টি প্রবেশ করান  তারপর নেক্সট প্রেস করুন।
  • ৫ম ধাপ: এক্টিভ প্রেস করুন। 

প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আপনার উইন্ডোজ ১০ প্রসেসরটি ইতিমধ্যে একটিভ হয়ে গিয়েছে। 

উইন্ডোজ ১০
উইন্ডোজ ১০ একটিভ করার নিয়ম © Digit
২য় সেকশন 

ডিজিটাল লাইসেন্স দ্বারা উইন্ডোজ ১০ প্রসেসর এক্টিভেশনের নিয়ম: 

  • ১ম ধাপ: এক্টিভেশন প্রক্রিয়া শুরু করার ‘I don’t have a product key’ অপশনটি ক্লিক করুন। 
  • ২য় ধাপ: সেটআপ করে নিজের লিংক করা মাইক্রোসফট একাউন্ট দিয়ে প্রবেশ করুন উইন্ডোজ ১০ এ।

 

*ইতিমধ্যে আপনার উইন্ডোজ ১০ প্রসেসরটি অটোমেটিকালি একটিভ হয়ে যাওয়ার কথা। আর যদি আপনি আপনার হার্ডওয়্যারে কোনো পরিবর্তন করে থাকেন তাহলে এর পরের ধাপগুলো অনুসরণ করুন- 

  • ৩য় ধাপ: কিবোর্ডের উইন্ডোজ কি টি চাপুন। তারপর সেটিংসে যান > আপডেট এন্ড সিকিউরিটি > এক্টিভেশন 
  • ৪র্থ ধাপ: যদি উইন্ডোজ এক্টিভেট না হয়ে থাকে, ‘ট্রাবলশুট’ (Troubleshoot) সার্চ করে তাতে প্রেস করুন।
  • ৫ম: নতুন উইন্ডোতে গিয়ে ‘এক্টিভেট উইন্ডোজ’ সিলেক্ট করুন, তারপর এক্টিভেট করুন অথবা যদি ‘I changed hardware on this device recently’ অপশনটি প্রযোজ্য হয় তাহলে তা সিলেক্ট করন। 
  • ৬ষ্ট ধাপ: আপনি যদি পরবর্তী ধাপে সাইন ইন প্রম্পট্ পেয়ে থাকেন তাহলে আপনার ডিজিটাল লাইসেন্সের সাথে মাইক্রোসফট একাউন্টটি দিয়ে সেগুলো অনুসরণ করুন।
  • ৭ম ধাপ: আপনি যে ডিভাইসটি ব্যবহার করছেন তা সিলেক্ট করে পাশে থাকা ‘This is the device I am using right now’ অপশনটি ক্লিক করুন।
  • ৮ম ধাপ: ‘এক্টিভ’ প্রেস করুন।

এতক্ষণে আপনার ডিজিটাল লাইসেন্সটি আপনার কাছে পৌঁছে যাবে আর আপনার উইন্ডোজ ১০ এর কপি এক্টিভেটেড হয়ে যাবে।

আমাদের সাথে কম্পিউটারের পরিচিতি ঘটার পর থেকেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজের সাথে আমাদের পরিচয়। এই পথচলা এক বা দুই দিনের না, দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি ঘরে একটি অতি জনপ্রিয় নাম। উইন্ডোজ ১ থেকে শুরু করা এই কোম্পানি প্রতিবার তাদের অপারেটিং সিস্টেমটি উন্নত থেকে আরও উন্নত সংস্করণ উন্মোচিত করে চলেছে ব্যপক সাফল্যের সাথে।

 

১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মত তারা উইন্ডোজ ১ নামে তাদের অপারেটিং সিস্টেমের যাত্রা শুরু করে। তারপর থেকে একে একে ৯ টি উল্লেখযোগ্য সংস্করণ বের করেছে এই কোম্পানি। ৩৬ বছরের বেশি সময় ধরে চালিয়ে আসা এই বিরাট প্রতিষ্ঠানের পিছনে আছে অনেক সাফল্য, সংগ্রাম আর আত্মনিষ্ঠার গল্প।

 

সেই ১৯৮৫ সালের উইন্ডোজ আজকের উইন্ডোজের থেকে অনেকটাই আলাদা। কিন্তু এই অপারেটিং সিস্টেমের এমন অনেক ফিচার আছে যা সময়ের এই পরীক্ষা জয় করে এখনো টিকে আছে এবং এই ফিচারগুলোর অভিজ্ঞতা আজও পাওয়া যায় এই অপারেটিং সিস্টেমে। খুব বেশি দিন হয়নি উইন্ডোজ তাদের সদা পরিচিত কিবোর্ড আর মাউসের ব্যবহার থেকে সরে এসে টাচস্ক্রীন প্রযুক্তি সংযুক্ত করেছে।

বিল গেটসের সাথে পথচলা শুরু করা উইন্ডোজ ১ ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত চালাচ্ছেন সত্য নাডেলা। উইন্ডোজ ১ ১৯৮৫ সালের নভেম্বর মাসে বিল গেটসের হাত ধরে পথ চলা শুরু করে। এটি ছিল মাইক্রোসফটের ১৬-বিটের মধ্যে গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস গড়ার প্রথম ও সফল প্রচেষ্টা। এই প্রসেসর শুরুর আগ পর্যন্ত মাউসকে ইনপুট ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করা হতো না। তাই এই নতুন ইনপুট ডিভাইসটির সাথে পরিচিতি ঘটাতে এবং এর ব্যবহার আরও সহজ করতে মাইক্রোসফট এই প্রসেসরে একটি বিল্ট-ইন গেমের ব্যবস্থা করেছিল যার নাম ছিল রিভারসি (Reversi) যা কী না সম্পূর্ণ ভাবে মাউসের ব্যবহারের উপর নির্ভর ছিল।

 

নিচের উইন্ডোজ  ১ এর ইন্টারফেসের একটি চিত্র দিয়ে দেওয়া হলো, এর বামপাশে গেমের একটি চিত্র দেখতে পাবেন। 

উইন্ডোজ  ১ এর ইন্টারফেসের একটি চিত্র © Wikipedia

 

এর ঠিক ২ বছর পর ১৯৮৭ সালে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ২ এর আগের উইন্ডোজ ১ এর জায়গা নিয়ে নেয়। উইন্ডোজ ২ এর তাক লাগানো চমক ছিল এতে অভারলেপ করার ফিচার যোগ করা হয়, তার সাথে উইন্ডোজে তখন মিনিমাইজ আর ম্যাক্সিমাইজ করার সুবিধাও যোগ হয়।

এর আগে শুধু মাত্র ‘আইকনাইজিং’ এবং ‘জুমিং’ করার সুবিধা ছিল। আমাদের পরিচিত ‘কনট্রোল প্যানেল’ অপশনটিও প্রথম উইন্ডোজ ২ থেকেই এর সুচনা শুরু করে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড আর এক্সেলের যাত্রাও শুরু হয় উইন্ডোজ ২ এর সাথে।

তারপর থেকে পর্যায়ক্রমে উইন্ডোজ ৩, ৩.১, উইন্ডোজ ৯৫, উইন্ডোজ ৯৮, উইন্ডোজ মি, ২০০০, উইন্ডোজ এক্সপি, ভিস্তা, উইন্ডোজ ৭, ৮, ৮.১ এবং ১০ বাজারে আসতে থাকে তাদের নিত্য নতুন ফিচার আর আকর্ষণ নিয়ে। আজ আমরা যেই প্রসেসর নিয়ে কথা বললাম তা দীর্ঘ ৩৬ বছরের এবং অনেক প্রচেষ্টার ফসল। প্রতিটি প্রসেসর তার ইউজারদের জন্য কম্পিউটার ব্যবহারের নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। বাড়ি, অফিস, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা মিলবে এই উইন্ডোজ প্রসেসরের।


This is a Bengali language article on  How to Activate Windows 10

Reference:  How to Activate Windows 10

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...