ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত খুন

১৯৯৭ সালে নিউ ইয়র্কের শহরে কয়েকদিনের মাঝে মাঝে প্রায় ৪৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। খুনগুলোর মধ্যে মিল পেয়েই পুলিশ নিশ্চিত হতে পারে যে খুনি আসলে একজনই। কারণ লাশগুলোর সকলেই ছিল সাদা চামড়ার কলেজে পড়ুয়া ছাত্র এবং লাশের পাশে একটি করে স্মাইলি আঁকা। আজ পর্যন্ত এই স্মাইলি ফেসের খুনিকে খুজে পায় নি পুলিশ।

ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত খুন

খুনি সবসময় কিছু না কিছু প্রমাণ রেখে যায়” এই কথাটি আজ প্রশ্নের সম্মুখীন, কেন? বলুন কেন নয়। ইতিহাসের এমন অসংখ্য খুনের ঘটনা রয়েছে যার খুনির কোন হদিস আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাহলে কি তারা এতোটাই নিখুতভাবে খুন করল যে একদম ধরা ছোয়ার বাইরে চলে গেছে নাকি অন্য কোন রহস্য লুকিয়ে আছে এর পিছনে? চলুন একসাথে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক তাহলে…

স্মাইলি ফেসের খুনি-

১৯৯৭ সালে নিউ ইয়র্কের শহরে কয়েকদিনের মাঝে মাঝে প্রায় ৪৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। খুনগুলোর মধ্যে মিল পেয়েই পুলিশ নিশ্চিত হতে পারে যে খুনি আসলে একজনই। কারণ লাশগুলোর সকলেই ছিল সাদা চামড়ার কলেজে পড়ুয়া ছাত্র এবং লাশের পাশে একটি করে স্মাইলি আঁকা। আজ পর্যন্ত এই স্মাইলি ফেসের খুনিকে খুজে পায় নি পুলিশ।

লাশের পাশে পাওয়া স্মাইলি, ©Rollingstone

 

ডরথি জেইন স্কটের খুন-

১৯৮০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডরথি জেইন স্কট আর চার বছরের ছেলের সাথে একা বসবাস করতেন। কয়দিন ধরে ফোনে একজন লোক তাকে বিরক্ত করে এই বলে যে, সে ডরথিকে খুব ভালোবাসে এবং ডরথি কি করে না করে সব সে দেখছে। মাঝে মাঝে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। কিন্তু প্রাংক কল মনে করে ডরথি একদম কানে তোলে না কথাগুলো। মে মাসের কোন রাতে অফিসের একটি মিটিয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় সে। মিটিং এ কিছুক্ষণ থাকার পর দেখতে পায় তার একজন কলিজ অসুস্থ বোধ করছেন। ডরথি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বললে সে রাজি হয়। এবং সাথে আরেকজ কলিগও জেতে চায়।

তারা তিনজন কাছের একটি হাসপাতালে যায় যেখানে অসুস্থ কলিগের চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হলে ডরথি তাদের বলে পার্কিং লটে যায় গাড়ি আনতে। বেশ অনেকক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পরও ডরথি ফিরে না এলে তার কলিগরা পার্কিং গেলে আর তাকে পায় না।

এভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে যায় ডরথির কোন খোজ পাওয়া যায় না। একদিন তার বাবা-মার কাছে ফোন আসে এবং একটি লোক বলতে থাকে তার কাছেই আছে ডরথি। এমনভাবে সে বার বার ফোন করতে থাকে, কিন্তু পুলিশ তার অবস্থান ট্রেস করতে পারে না কারণ সে খুব অল্প সময়ের জন্যই কথা বলত।

জুনের মাঝামাঝিতে ডরথির বাবা একটি সংবাদপত্রে মেয়ের নিখোঁজের সংবাদ দিতে গেলে সম্পাদক তাকে এক আশ্চর্যজনক কথা জানায়। তিনি আসার কিছুক্ষণ আগেই এক ব্যক্তি সম্পাদকের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, ডরথিকে সে খুব ভালোবাসত। তবে ডরথি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকা করছে, তাই সে তাকে খুন করতে বাধ্য হয়েছে।

এরপর ওই ব্যক্তি এবং ডরথি কারোর কোন খোজ পাওয়া যায় নি। ধরে নেওয়া হয়, অজানা এই ব্যক্তির হাতেই হয়ত খুন হয়েছে ডরথি।

ডরথি জেইন স্কট ও তার ছেলে, ©consideringcoldcases

ইয়োগার্ট শপের খুন-

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে, টেক্সাসের একটি ইয়োগার্ট শপ থেকে ফোন আসে যে তাদের দোকানে আগুন লেগেছি। দমকল বাহিনী দ্রুততার সাথে সেখানে পৌঁছে যা দেখতে পায় তাদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে দোকানটি তার মাঝে চারটি যুবতীর লাশ, যারা ঠিক আগুনে পুড়ে যায় নি। বরং বর্বরভাবে তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। তাদের লাশগুলো একজন আরেকজনের মুখোমুখি করে রাখা হয়েছিল এবং তাদের পরিহিত কাপড় দিয়েই বেধে রাখা হয়েছিল। ঠিক মাথায় গুলি করে খুন করা হয় প্রত্যেককে। তবে এই বর্বরতার মূল হোতাকে এখনো খুজে পাওয়া যায়নি।

ইয়োগার্ট শপের বর্বরতার শিকার চার যুবতী, ©medium

 

লেডি ওফ দা ডিউন্সের খুনি-

১৯৭৪ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে ম্যাসাচসেটসের কাছে বালিয়ারিতে এক মহিলার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ এভাবে তার বর্ণনা দেয় যে, মহিলার লাশটি বিচ তোয়ালে মোড়া ছিল। হাতগুলো কাটা ছিল এবং চেহারা থেথলে দেওয়া হয়েছিল কোন সামরিক অস্ত্র দিয়ে যাতে লাশের পরিচয় না পাওয়া যায়। না লাশের কোন পরিচয় পাওয়া যায় না এই বিভৎস কাজের বিকৃত মস্তিষ্কের খুনির।

লেডি অফ ডিউন্সের লাশ, ©bionworldz

ওয়ালকার পরিবারের খুন-

১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ফ্লোরিডার ওয়ালকার পরিবারের ৪ জনকে খুন করা হয় নৃশংসভাবে। তাদের মধ্যে ৩ বছরের ছেলে জিমি ও ১ বছর বয়সী শিশু ডেব্বি, সকলকে গুলি করে হত্যা করা হয় ওবং মিসেস ওয়ালকারকে ধর্ষণ করা হয়। বাড়িতে খুনির জুতার ছাপ ও বাথরুমে আঙ্গুলের ছাপ পাবার সত্ত্বেও আসল খুনিকে খুজে পাওয়া যায়নি। কয়েকবছর পর্যন্ত ৫০০-রও বেশি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। এই ঘটনার ৫০ বছর পর পুলিশ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় যে ওয়ালকার পরিবারের মত এরকম একটি খুন হয়েছিল ঠিক এই খুনের কয়েকবছর আগেই- ক্লাটার পরিবার। এই খুন নিয়ে পরবর্তীতে একটি বই প্রকাশ করা হয়- ইন কোল্ড ব্লাড।

ওয়ালকার পরিবার, ©heraldtribune

দুই গ্রিমস বোনের খুন-

১৯৫৬ সালে ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শিকাগোর এক সন্ধ্যায় দুই বোন বারবারা গ্রিমস (১৫) ও পেট্রিশিয়া গ্রিমস (১৩) লাভ মি টেন্ডার সিনেমা দেখার জন্য বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু মধ্যরাত পার হয়ে গেলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসলে বাবা-মা চিন্তায় পরে যায় এবং নিখোঁজ রিপোর্ট লিখায়। অনেক খুঁজেও তাদের কোন খবর না পেয়ে পুলিশ ধরেই নেই তারা হয়ত কোথাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু ১৯৫৭ সালে জানুয়ারি মাসে এক ব্যক্তি ইলিনইসে দুইবোনের লাশ দেখতে পায়। লাশ দুটো ছিল বিবস্ত্র এবং তাদের চেহারা ছিল ক্ষতবিক্ষত যেন কোন প্রাণী আচড়ে দিয়েছে। কিন্তু কে তাদের এই পরিণতি করল তার কোন উত্তর নেই কারো কাছে।

বারবারা গ্রিমস ও পেট্রিসিয়া গ্রিমস, ©medium

This is a Bangla Article about some mysterious death in history.

 Reference-

unsolved-murders-shivers-down-your-spine

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...