আর্সেনাল ইনভিঞ্চিবল: যে দলটি অপরাজিত ছিল প্রিমিয়ার লীগের পুরো এক মৌসুম

এক মৌসুম অপরাজিত থাকা আর্সেনাল সেই অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে নিয়ে গিয়েছিল ৪৯ ম্যাচে।

আর্সেনাল ইনভিঞ্চিবল: যে দলটি অপরাজিত ছিল প্রিমিয়ার লীগের পুরো এক মৌসুম

 

বর্তমান সময়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় লীগের তালিকা করা হলে তাতে অনায়াসেই সবার উপরে থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, আর্সেনাল এর মতো দলগুলোর খেলাও নিশ্চিত দেখেছেন? এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম সেরা এই লীগের এখন পর্যন্ত সেরা দল কোনটি?

 

১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লীগ রূপ নেয়ার পর থেকে লীগে এমন বেশ কয়েকটি দলের আবির্ভাব ঘটেছে যারা নিজেদের সেরা দল বলে দাবি করতে পারে। প্রিমিয়ার লীগ ভক্তদের এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কেউ বলবে ১৯৯৮/৯৯ এর ডাবল জেতা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সেরা কিংবা ২০০৭/০৮ এর ইউনাইটেড সেরা, কারও কাছে ২০০৪/০৫ এর সবচেয়ে কম গোল হজম করা মরিনহোর চেলসি সেরা, কেউ-বা বলবে ২০১৮-১৯ সালের ঘরোয়া ট্রেবল জেতা ম্যানচেস্টার সিটি সেরা, গতবারের (২০১৯-২০) চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলও এই দাবি করবে। কারণ প্রিমিয়ার লীগে ৩৮ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া চাট্টিখানি কথা নয় । কে সেরা সে তর্কে যাব না। তবে এই সেরাদের তালিকায় জায়গা পাবে এমন একটি দলের কথা বলবো। ২০০৩-০৪ মৌসুমের আর্সেনাল দলটির কথা। সেই মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের ৩৮ ম্যাচের একটিতেও হারেনি নর্থ লন্ডনের এই দলটি!

 

আর্সেনাল-ফুটবল
২০০৩-০৪ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগে অপরাজিত আর্সেনাল দল ©bleacherreport.com

“পুরো মৌসুম অপরাজিত থাকা অসম্ভব কিছু নয়”- আর্সেন ওয়েঙ্গার

আর্সেনাল টিমের এখনকার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মাঝে কিছুদিন ‘নাম্বার ফোর’ জোকের পাঞ্চলাইন ছিল আর্সেনাল। এখন টেবিলের চার নম্বর পজিশন দূরে থাক, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের জন্য জায়গা পেতেও নাভিশ্বাস উঠে যায় দলটির। তবে এসব কিছুর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন আর্সেনাল ছিল প্রিমিয়ার লীগ জায়ান্ট। প্রিমিয়ার লীগের লড়াইয়ে অন্যান্য দলগুলোর সাথে হাড্ডাহাড্ডি কম্পিটিশন দিত তখন। কঠিন ডিফেন্স, সাথে  লিথাল এবং ফ্লুইড অ্যাটাক লাইন। ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল তখন ত্রাস ছড়াত খেলার মাঠে।

আর্সেনাল-ফুটবল
আর্সেন ওয়েঙ্গার ©monthlymale

 

আর্সেনালের খেলা তখন এতই ভালো ছিল যে একটি অপরাজিত মৌসুম কাটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ার মত আত্মবিশ্বাস তাদের ম্যানেজারের ছিল। ২০০২-০৩ প্রিমিয়ার লীগে বেশ ভালো একটা শুরু হয়েছিল গানারদের। ওয়েঙ্গার তখন বলেছিলেন যে অপরাজিত মৌসুম কাটানোর মত সামর্থ্য তার দলের আছে।

 

“আমি এখনো আশাবাদী যে আমরা অপরাজিত মৌসুম কাটাতে পারব- জানি এটা ভয়াবহ চিন্তা। অসম্ভব কিছু নয় কারণ এসি মিলানও একসময় করেছে। কিন্তু আমি বুঝি না এটায় এত অবাক হওয়ার কি আছে? আপনার কি মনে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল কিংবা চেলসি এই স্বপ্ন(অপরাজিত মৌসুমের) দেখে না? তারা শুধু মুখে বলে না কারণ তারা ভয় পায় যে মানুষ তাদের নিয়ে হাসবে। কিন্তু আমরা জানি এটা এমন একটা জায়গা যেখানে সবই সম্ভব, তাই হাসার কিছু নেই।“

 

আর্সেন ওয়েঙ্গারের এই বক্তব্যের পর হাসির রোল পড়ে গিয়েছিল ফুটবল মহলে। কারণ কোনো দল পুরো একটি মৌসুম অপরাজিত থাকবে এটা ছিল সবার কল্পনারও বাইরে। ইংলিশ ফুটবলে এরকম অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল তখনেরও একশ বছরেরও আগে।

 

রেকর্ডটি ছিল প্রেস্টন নর্থ এন্ডের, তাও ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে। তখন অবশ্য লীগ ছিল ২২ ম্যাচের। একশো বছরেও যেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি, এখন সেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে এটা ভাবাও তো বোকামি। কেউই তাই ওয়েঙ্গারের এই মন্তব্যকে সিরিয়াসলি নেয়নি।

 

দুর্ভাগ্যবশত ২০০২-০৩ মৌসুমটি আর্সেনালের জন্য ভালো যায়নি। ওয়েঙ্গারের এই মন্তব্যের এক মাস পরই আর্সেনাল তাদের প্রথম ম্যাচটি হারে। এরপর শুরু হয় প্রিমিয়ার লীগে আর্সেনালের বাজে এক যাত্রা। এর আগের ১৯ বছরে যা ছিল আর্সেনালের জন্য জঘন্যতম। সেবার লীগও হারাতে হয় ইউনাইটেডের কাছে। ঘরের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের কাছে ৩-২ গোলের হারে শিরোপাটি উঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলের হাতে। তবে সেই হারটিই ছিল শেষ। তারপরের টানা ১৭ মাস কোনো ম্যাচ হারেনি ওয়েঙ্গারের দল।

 

অপরাজিত মৌসুম ২০০৩/০৪

এভারটনের সাথে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জয় দিয়ে শুরু। তারপর একে একে মিডলসব্রো, অ্যাস্টন ভিলা, ম্যান সিটিকে হারানোর পর ঠিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে  পোর্টসমাউথের সাথে  হোঁচট খেয়ে বসে আর্সেনাল। তাদের সাথে ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে। এরপরের ম্যাচে গানাররা মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

আর্সেনাল-ফুটবল
‘ব্যাটল অফ ওল্ড ট্রাফোর্ড’ খ্যাত ম্যাচটিতে দুই দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি মুহূর্ত © premierleague25years

 

প্রিমিয়ার লীগের কুখ্যাত ম্যাচগুলোর একটিতে পরিণত হয় ম্যাচটি। ‘ব্যাটল অফ ওল্ড ট্রাফোর্ড’ খ্যাত এই ম্যাচটির পুরো সময় জুড়েই দুই দলের খেলোয়াড়েরাই খেলছিল মারমুখী ফুটবল। দুই দল মোট ফাউল করেছিল ৩১টি। ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ভিয়েরা। গোলশূণ্য ম্যাচ ড্র হয়েই যাচ্ছিল প্রায়। ইঞ্জুরি টাইমে পেনাল্টি পেয়ে বসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই বুঝি গেল তলিয়ে গেল অপরাজিত থাকার আশা। পেনাল্টি নিতে আসলেন প্রিমিয়ার লীগের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন, রুদ ফন নিস্টেলরয়। তারপর সবাইকে অবাক করে নিস্টেলরয় শট লাগালেন গোলবারে।

 

ম্যাচ ড্র হলো ০-০ তে। এরপর আর তেমন কোনো দল হুমকি হয়ে দাঁড়ায়নি দলটির জন্য। বাকি মৌসুমটুকু অপরাজিত ছিল তারা। লীগের ৩৮ ম্যাচের ২৬টিতে জয়, বাকি ১২টি ছিল ড্র। সেবার লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন থিয়েরি অরি। ৩০ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবার পাশাপাশি সেই মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো।

আরো পড়ুন : প্রিমিয়ার লিগের আদ্যপান্ত

 

২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল। চার ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা জেতার জন্য আর্সেনালের দরকার ছিল এক পয়েন্ট। ম্যাচ ছিল নগর প্রতিদ্বন্দী টটেনহামের সাথে হোয়াইট হার্ট লেনে। শহরের রাইভালদের মাঠে লীগ জেতার মত পৈশাচিক আনন্দ আর কিছুতে নেই। তাই জয়ের জন্য মরিয়া ছিল আর্সেনাল দল।

আর্সেনাল-ফুটবল
হোয়াইট হার্ট লেনে টটেনহামের সাথে ম্যাচ ড্র করেই শিরোপা জিতে নেয় আর্সেনাল © premierleague25years

 

থিয়েরি অরি বলছিলেন,

“পুলিশের নির্দেশ ছিল আমরা যেন সেখানে(হোয়াইট হার্ট লেনে) শিরোপা জিতলেও অতি উদযাপন না করি।“ 

প্রথমার্ধেই রবার্ট পিরেস এবং প্যাট্রিক ভিয়েরার গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে টটেনহাম জ্বলে উঠে। জেমি রেডন্যাপ এবং রবি কিনের গোলে ২-২ এ সমতা আসে ম্যাচে। কিন্তু লাভ হয়নি। এক পয়েন্ট পেয়ে চার ম্যাচ হাতে রেখে লীগ জিতে নেয় আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল।

 

অপরাজিত আর্সেনালের ট্যাকটিক্স

আর্সেনালের সেই দলটি খেলত মূলত ৪-৪-২ ফর্মেশনে। খেলার মাঝে সেই ফর্মেশন পাল্টে যেত ৪-২-৩-১ এ। ডেনিস বার্গক্যাম্প স্ট্রাইকার থেকে নেমে যেতেন ‘নাম্বার ১০’ ভূমিকায়। মিডফিল্ড এবং ফরোয়ার্ড লাইনের মাঝখানে।

আর্সেনাল-ফুটবল
আর্সেনালের আক্রমণভাগের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় থিয়েরি অরি এবং ডেনিস বার্গক্যাম্প © arsenal

 

দলটির খেলা মূলত মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে তাদের অ্যাটাক লাইনের কারণে। অরি তখন ছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। ২০০৩ সালে ব্যালন ডি’অর ভোটিংয়ে হয়েছিলেন দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে চতুর্থ স্থানে ছিলেন অরি। তার সাথে আক্রমণভাগে ছিলেন ডেনিস বার্গক্যাম্প। ক্যারিয়ারের মোটামুটি শেষের দিকে ছিলেন তখন। আগের মত দুর্দান্ত ভিশন বা মুভমেন্ট না থাকলেও অরিকে বলের বেশ জোগান দিতেন।

 

বার্গক্যাম্পের সাথে অরির জুটিটি ছিল গতি, স্কিল এবং বুদ্ধিমত্তার দারুণ এক মিশেল। মাঝেমধ্যেই মাঠের বাঁ পাশে অরির দৌড় স্পেস তৈরি করে দিতো মাঠে। ডিফেন্ডারদের ছেড়ে দেয়া জায়গায় বার্গক্যাম্প ঢুকে যেতেন। এভাবেই সে মৌসুমে ৭৩ গোল করেছেন আর্সেনাল, যার ৩০টাই ছিল অরির। 

আর্সেনাল-ফুটবল
আর্সেনাল মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা ছিলেন প্যাট্রিক ভিয়েরা ©arsenalpics

লেফট উইংয়ে ছিলেন নিয়মিত গোলের আরেক উৎস রবার্ট পিরেস। লীগে করেছিলেন ১৪ গোল, সাথে ১০ এসিস্ট। আর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের প্রাণ ছিলেন প্যাট্রিক ভিয়েরা। ডানপাশে ছিলেন ৩ মিলিয়ন ইউরোতে সুইডিশ ক্লাব হামস্টাড থেকে আসা ফ্রেডি লাংবার্গ। খেলার মাঠে নিজের ক্ষিপ্র বক্স টু বক্স স্কিল দিয়ে দলের খেলায় অবদান রাখতেন।

আর্সেনাল-ফুটবল
প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সেরা রক্ষণ জুটির তালিকায় থাকবে তোরে-ক্যাম্পবেল জুটি ©sportskeeda

 

আক্রমণভাগের দুর্দান্ত খেলার কথা আলোচনায় এলেও সেই মৌসুমে গানারদের ডিফেন্সও ছিল বেশ ভাল। পুরো টুর্নামেন্টে তারা গোল হজম করেছিল মাত্র ২৬টি। সেন্টারব্যাকের ভূমিকায় ছিলেন সল ক্যাম্পবেল এবং কোলো তোরে। তাদের দুইজনের দুর্দান্ত অ্যাথলেটিসিজম আর বুদ্ধিমত্তায় তাদের ডিফেন্স পার করা বেশ কঠিন ছিল। গোলবার আগলে রাখার দায়িত্বে ছিলেন জেনস লেহম্যান। এই ডিফেন্সকে পূর্ণতা দিয়েছিলেন দুইজন গতিশীল ফুলব্যাক অ্যাশলে কোল এবং লরেন।

আর্সেনাল-ফুটবল
আর্সেনাল © goal

 

আর্সেনালের তখনকার খেলাকে বার্সেলোনার সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু আর্সেনালের সেই দলের খেলার যদি কারো সাথে সাদৃশ্য খুঁজতেই হয়, তবে সেটি হবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। মিডফিল্ডে বল হোল্ডের ভূমিকায় থাকতেন ভিয়েরা এবং জিলবার্তো সিলভা। দুই ফুলব্যাক তেমন একটা আক্রমণে যেতেন না। উইঙ্গার পিরেস এবং লাংবার্গও দরকার ছাড়া তেমন একটা আক্রমণে উঠতেন না, বরং আক্রমণভাগে বল জোগান দেয়ার ভূমিকায় থাকতেন। এই দলীয় পারফর্মেন্সের কল্যাণেই সেবার কোনো ম্যাচ না হেরেই পুরো একটা মৌসুম পার করেছিল লন্ডনের ক্লাবটি।

 

আর্সেনালের অপরাজিত মৌসুমের মাস্টারমাইন্ড

সোনালী প্রিমিয়ার লীগ ট্রফি হাতে ইনভিঞ্চিবলস এর কারিগর আর্সেন ওয়েঙ্গার ©football

 

অপরাজিত আর্সেনালের পরিকল্পনা মাঠে রূপ দেয়ার কৃতিত্ব অবশ্যই আর্সেনাল দলটির। তবে এর আসল কৃতিত্ব এই পরিকল্পনার আসল কারিগর দলটির ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারের।  

 

ওয়েঙ্গার কেবল আর্সেনালকেই নয়, বরং পুরো ইংলিশ ডিভিশন ফুটবলকে পালটে দিয়েছিলেন। তার প্রবর্তন করা নতুন ট্রেনিং, ফিটনেস এবং ডায়েট সিস্টেম খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যেভাবে তাদের সেরাটা বের করে এনেছে, তা পুরো ইংল্যান্ডের ম্যানেজারদের বাধ্য করেছে ওয়েঙ্গারের পদ্ধতি অনুসরণ করতে। বিয়ার, সাথে জাংক ফুড দিয়ে ম্যাচ জয় উদযাপনের রীতি বাদ দিয়েছিলেন ওয়েঙ্গার।

 

ইনভিঞ্চিবল দলে তার নতুন সংযোজন ছিল কেবল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আসা গোলকিপার জেন্স লেম্যান। দলের প্রয়োজনে মাঠে খেলোয়াড়দের ভূমিকায় বদলেছেন বারবার। আইভরিয়ান লিগ থেকে মাত্র দেড় লাখ ইউরোতে আনা কোলো তোরেকে মিডফিল্ডার এবং ফুলব্যাক থেকে বানিয়ে দিয়েছেন সেন্টারব্যাক। রাইট মিডফিল্ডে খেলা লরেনকে খেলিয়েছেন রাইট ব্যাকে। অবশ্য এ নিয়ে লরেনের সাথে তার কম বচসা হয়নি।

 

পরে অবশ্য দলের স্বার্থে ওয়েঙ্গারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন লরেন। এজন্য তাকে পস্তাতেও হয়নি। দলে তেমন কোনো পরিবর্তন না এনেই সাধন করেছেন অসাধ্য। টাকা খরচ করে বড় তারকা খেলোয়াড় আনেননি তেমন। অথচ এর মাত্র ১২ মাস আগেই তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা হচ্ছিল তার অপরাজিত থাকার কথা শুনে।

২০০৩/০৪ মৌসুমের পর আর প্রিমিয়ার লীগ জিততে পারেনি আর্সেনাল ©skysports

 

এক মৌসুম অপরাজিত থাকা আর্সেনাল সেই অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে নিয়ে গিয়েছিল ৪৯ ম্যাচে। টানা ৪৯ ম্যাচ প্রিমিয়ার লীগে অপরাজিত ছিল তারা।

 

সেই ২০০৩-০৪ মৌসুমই ছিল আর্সেনালের শেষ লীগ শিরোপা জয়। এরপর আর লীগ জিততে পারেননি ওয়েঙ্গার। পাঁচটি এফএ কাপ জিতেছে যদিও। কিন্তু তাতে তো আর লীগ জয়ের সাধ মেটে না। তবে লীগ জিতুক আর না জিতুক, অপরাজিত লীগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড এখনও আর্সেনালেরই আছে।


This is a Bangla article about Invincible Arsenal 2003/04. 

Feature Image : Goal.com

References:

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...