রণাঙ্গনের গল্প- ০২ | আমি বীরাঙ্গনা বলছি | নীলিমা ইব্রাহিম (ভিডিও)

আমি বীরাঙ্গনা বলছি ‘ নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি বই। এই বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। লেখক বীরাঙ্গনাদের সাথে একান্ত আলাপ করে তাদের সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। সেখান থেকে একজন বীরাঙ্গনার গল্প শুনে আসি চলুন।

 

আমি রীনা বলছি। আশা করি আমার পরিচয় আপনাদের কাছে সবিস্তারে দেবার কিছু নেই। আমাকে নিয়ে আপনারা এতো হৈ চৈ করেছিলেন যে ত্রিশ হাজার পাকিস্তানি বন্দি হঠাৎ ভাবলো বাংলাদেশ থেকে কোনো হেলেনকে তারা হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য খুব বেশি বিস্মিত হন নি। কারণ আমার মতো আরও দু চারজন এ সৌভাগ্যের অধিকারিণী হয়েছিলেন।  

 

অবশ্য পাকিস্তানিরা কিন্তু আমাদের জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল না, আমরা স্বেচ্ছায় ওদের সঙ্গে যাচ্ছিলাম। কারণ বাংকার থেকে আমাকে যখন ভারতীয় বাহিনীর এক সদস্য অর্ধ উলঙ্গ এবং অর্ধ মৃত অবস্থায় টেনে তোলে তখন আশেপাশের দেশবাসীর চোখে মুখে যে ঘৃণা ও বঞ্চনা আমি দেখেছিলাম তাতে দ্বিতীয়বার আর চোখ তুলতে পারি নি৷ জঘন্য ভাষায় যেসব মন্তব্য আমার দিকে তারা ছুড়ে দিচ্ছিল…. ভাগ্যিস বিদেশীরা আমাদের সহজ বুলি বুঝতে পারে নি। 

 

 

ওরা খুব সহানুভূতির সঙ্গে আমাকে টেনে তুলে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে নিয়ে গেল। গোসল করে কাপড় বদলানোর সুযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো, কিছু খাবো কিনা? মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালাম। তারপর ওদের সহায়তায় জিপে উঠলাম। আমি ভালো করে পা ফেলতে পারছিলাম না, পা টলছিল, মাথাও ঘুরছিল। ওদের কথায় বুঝলাম আমরা ঢাকা যাচ্ছি। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না আমি জীবিত না মৃত? 

 

 এমন পরিণাম কখনও তো ভাবি নি। ভেবেছিলাম একদিন বাংকারে মরে পড়ে থাকবো আর প্রয়োজনে না লাগলে ওরাই মেরে ফেলে দেবে। লোকসমাজে বেরুবো, এতো ঘৃণা ধিক্কার দেশের লোকের কাছ থেকে পাবো তাতো কল্পনাও করি নি। 

 

অথচ আজ যখন বিজয়ের লগ্ন এসেছে, মুক্তির মুহূর্ত উপস্হিত হয়েছে তখনও একবুক ঘৃণা নিয়ে তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করছে সামাজিক জীবেরা। 

 

একটা পথই এসব মেয়েদের জন্য খোলা ছিল- তা হল মৃত্যু। নিজেকে যখন রক্ষা করতে পারে নি, তখন মরে নি কেন? সে পথ তো কেউ আটকে রাখে নি। কিন্তু কেন মরবো? সে প্রশ্ন তো আমার আজও। 

 

মরি নি বলে আজও আর পাঁচজনের মতো আছি, ভালোই আছি, জাগতিক কোনও সুখেরই অভাব নেই। নেই শুধু বীরাঙ্গনার সম্মান। উপরন্তু গোপনে পাই ঘৃণা, অবজ্ঞা আর ভ্রুকুঞ্চিত অবমাননা।  

 

সে কবে, কতোদিন আগে? আমার একটা অতীত ছিল, ছিল বাবা-মা বড়ভাই আসাদ আর ছোটভাই আশফাক। বড় সুখে আনন্দে কেটে যাচ্ছিল আমাদের দিনগুলো। আতাউরের সঙ্গে কিছুটা মন দেওয়া নেওয়া যে হয় নি তা নয়, তবে ফাইনাল পরীক্ষার আগে কিছু প্রকাশ করবার সাহস আমার ছিল না। 

 

আতাউর ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে পিএইচডি করবার জন্যে আমেরিকা যাচ্ছে। নিজেরা ঠিক করলাম ও চলে যাক, পরীক্ষা হলে আমারও যাবার ব্যবস্হায় বাধা থাকবে না।  

 

আমি নাকি অসাধারণ সুন্দরী ছিলাম। ঘরে বাইরে সবাই তাই বলতো। মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছি – না, খুঁত নেই আমার কোথাও, দীর্ঘ মেদশূন্য দেহ, গৌরবর্ণ, উন্নত নাসিকা, পদ্মপলাশ না হলেও যাকে বলে পটল চেরা চোখ, পাতলা রক্তিম ওষ্ঠ। একেবারে কালিদাসের নায়িকা!  

 

এমনই নিস্তরঙ্গ সুখের জীবনে বিক্ষুদ্ধি বাতাস বইতে শুরু করলো, ছ’দফা আন্দোলনকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন কর্মতৎপর হয়ে উঠলো। আইয়ুব গেল, ইয়াহিয়া এলো, হলো নির্বাচন। কিন্তু সংসদ বসলো না। সময় কাটিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে লাগলো পাকিস্তান। তারপর ২৫শে মার্চ। 

 

একদিন ভর দুপুর। মা আমাদের খাবারের ব্যবস্হা করছেন। এমন সময় একটা জিপ এসে থামলো। বাবা দরজার কাছে এলেন, একজন অফিসার তমিজের সঙ্গে আব্বার সঙ্গে করমর্দন করলো। আব্বা তাদের বসতে বললো, কিন্তু তারা বসলো না। বললো, তোমার ছেলে কোথায়? 

 

বাবা বললেন, ও তো তোমাদের মতো আর্মির ক্যাপ্টেন, কুমিল্লায় আছে। তারপর স্টেনের আওয়াজ ঠ্যা ঠ্যা ঠ্যা। বাবা, মা, খানসামা আলীর রক্তাক্ত দেহ মাটিতে পড়ে। 

 

হতভম্ব আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম, ক্রুদ্ধ মুখগুলো খুশিতে ভরে গেল। আইয়ে আইয়ে করে আমার হাত ধরে ঐ জিপে টেনে তুলে নিয়ে গেল। আমি তখন চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সজ্ঞানে ছিলাম কি না তাও বলতে পারি না। কিছুক্ষণ পরই ঝাঁকুনি দিয়ে জিপটা থেমে গেল। বুঝলাম নিকটস্থ সেনানিবাসে এসেছি। আমার খেদমতকারীরা কর্তার হুকুমে আমাকে কাছেই একটা ঘরে নিয়ে গেল। এটা অফিসারস মেস।

 

 ধীরে ধীরে কথাবার্তা শুরু হলো। আব্বার পরিচয় নিলো, বড়ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলো আরও কত কী। 

 

এদের দলপতি একজন লেঃ কর্ণেল। আল্লাহ এই ছিল কপালে! হাসলাম নিজের মনে, এ যুদ্ধ একদিন শেষ হবে। এরা যতো শক্তিমানই হোক জয়ী আমরা হবোই। তখন আমি কোথায় থাকবো? তার অনেক আগেই তো আমি ব্যাধিগ্রস্ত শরীর নিয়ে শেষ হয়ে যাবো।  

 

একদিন সন্ধ্যায় কর্ণেল আমাকে নিয়ে খোলা জিপে বেড়াতে বেরুলেন। গাড়ি একটা ছোট দোকানের সামনে থামলো, ছোট ছোট কটা ছেলে যাদের আমরা ঢাকায় টোকাই বলতাম দাঁড়ানো ছিল, হয়তো-বা খেলছিল, মিলিটারী দেখে থেমে গেছে। 

 

গলা বাড়িয়ে বললাম, কি করছো? ছোট ছেলেটা বললো, বাঙালি, কথা কইস না, হালায় বেবুশ্যে মাগী। ছেলেগুলো দৌড় দিলো কিন্তু আমার সর্বদেহে মনে যে কালি ছিটিয়ে গেল তার থেকে আমি আজও মুক্ত হতে পারি নি। সেই ছোট্ট শিশুর চোখে মুখে প্রতিফলিত ঘৃণা আমার রানীত্বকে মুহূর্তে পদদলিত করেছিল। 

 

সম্ভবত জুন মাস। শিষ দিতে দিতে কর্ণেল সাহেব গাড়ি থেকে নামতেই তার মাথায় বজ্রাঘাত হলো। একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে, হোমড়া চোমড়া কেউ এসেছেন। আমাকে ইশারায় পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে যাবার নির্দেশ দিলেন। সেই বারই কর্ণেলের সাথে শেষ দেখা আমার। 

 

হেড কোয়ার্টার থেকে বিগ্রেডিয়ার খান এসেছে। তারপর আমার এ সংযত্নে লালিত দেহটাকে নিয়ে সেই উন্মত্ত পশুর তান্ডবলীলা ভাবলে এখনও আমার বুক কেঁপে ওঠে। 

 

আমাকে কামড়ে খামচে বন্যপশুর মতো শেষ করেছিল। মনে হয় আমি জ্ঞান হারাবার পর সে আমাকে ছেড়ে গেছে। লোকটাকে এক ঝলক হয়তো ঘরে ঢুকতে দেখেছিলাম তারপর সব অন্ধকার। সকালে মুখ ধুতে গিয়ে দেখলাম আমার সমস্ত শরীরে দাঁতের কামড় ও নখের আঁচড়। কামগ্রস্ত মানুষ যে সত্যিই পশু হয়ে যায় তা আমার জানা ছিল না।  

 

ভোরে বিগ্রেডিয়ার সাহেব চলে গেছেন কর্নেলকে বগলদাবা করে। তার প্রেমলীলার সংবাদ পেয়েই বিগ্রেডিয়ার পরিদর্শনে এসেছিলেন। শ্রমের মূল্য উশুল করেই গেলেন। এরপর থেকে শুরু হলো পালা করে অন্যদের অত্যাচার। কর্নেলের ভয়ে যারা আমাকে রাণীর মর্যাদা দিয়েছিল তারা দু’বেলা দু’পায়ে মাড়াতে লাগলো। আমার শরীর সহ্য হচ্ছিল না। গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলাম। আমাকে কুমিল্লা মিলিটারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। 

 

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আমাকে ঢাকার কাছাকাছি কোনও একটি ক্যাম্পে নিয়ে এলো। প্রায় কুড়িজন মেয়ে সেখানে ছিল। দু’,দিন পর দেখলাম ওই ঘরেরই একপাশে চার-পাঁচজন উন্মত্ত পশু একটা মেয়েকে টেনে নিয়ে সবার সামনেই ধর্ষণ করলো। যুদ্ধের ন’মাসে আমি যতো অত্যাচার দেখেছি এবং সয়েছি এটিই সর্বাধিক বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক। 

আমি-বীরাঙ্গনা-বলছি
আমি বীরাঙ্গনা বলছি বইয়ের লেখক নীলিমা ইব্রাহিম

 

এরপর কুর্মিটলায় এলাম। ১৬ই ডিসেম্বর নিয়াজী আত্মসমর্পণ করলো। আমাদের বলা হলো নিজ দায়িত্বে বাড়ি চলে যেতে পারো।  

 

একদিন ভাইয়া আসলো নিয়ে যেতে। ঢাকায় একরাত হোটেলে রইলাম। পরদিন নিজের বাড়ি। 

 

এরপর এলো কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। আতাউর এলো বিদেশ থেকে। দিন সাতেক পর ভাইয়া এলো। সরাসরি আতাউরের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। আতাউর কিছুদিন সময় চাইলো। শেষ পর্যন্ত মত দিলো বিয়েতে। আতাউর গোপনে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। তাহলে কি সত্যিই এটা দায়সারা? প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটলো ভাইয়াকে যখন এ কথাটা আতাউর বললো। 

 

চিৎকার করে উঠলেন ভাইয়া, কেন? গোপন কেন? যদি মনে করে থাকো আমার বোন উচ্ছিষ্ট তাহলে তোমাকে আমিই নিষেধ করবো এ বিয়ে তুমি করো না। মন পরিচ্ছন্ন করতে পারলে এসো, না হয় এখানেই শেষ।  

 

আমিও শক্তি সঞ্চয় করলাম। বললাম, আতাউর আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম। তুমি যেতে পারো। ভালো করে শুনে যাও আমি বীরাঙ্গনা, কখনো ভীরুর কন্ঠলগ্না হবো না। 

 

দিন যায়, থেমে থাকে না। আমাদের দিনও চললো তবে পথটা আর সরল সহজ রইল না। বাড়ি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় ভাইয়ার বাসায় সেনানিবাসে চলে এলাম। সেনানিবাসের কাছাকাছি একটা স্কুলে কাজ নিলাম। সকালে ভাইয়া পৌঁছে দেয়, ছুটির পর এক সহকর্মীর সঙ্গে ফিরি। 

 

মিতুও আমারই মতো ভাইয়ার কাছে থাকে। তবে ওর মা আছেন, তাই সুখের বন্ধন আছে। 

 

মিতুর মেজভাই ডাক্তার। সেও আর্মিতে আছে। পোস্টিং যশোর।  

 

হঠাৎ একদিন মিতু ওর ভাই নাসিরকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এলো। চায়ের জন্য ভেতরে যেতেই মিতু বললো, তোকে ভাইয়ার খুব পছন্দ, তুই সম্মতি দিলে আম্মা তোর ভাইয়ার কাছে কথা পাড়বেন

 

পাগল হয়েছিস? আমি ওসব ভাবিই না। বললাম আমি দ্রুত।  

আমি-বীরাঙ্গনা-বলছি
আমি বীরাঙ্গনা বলছি

 

চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে বাইরের ঘরে এলাম। নাসির ঘুরে ঘুরে সব দেখছে। বাবা মার ফটো দেখে জিজ্ঞাসু চোখে চাইলো। বললাম আব্বা-আম্মা একাত্তরে শহীদ, নিজের ঘরের ভেতরেই। চমকে ওঠলো ওরা। আমি প্রসঙ্গ চাপা দিতে চেষ্টা করি, নাসির তবু জিজ্ঞেস করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। বললাম, আজ নয় নাসির সাহেব আরেক দিন সময় করে আসুন সব গল্প বলবো আপনাকে। 

 

পরদিনই তিনি হাজির। এক মুখ হাসিয়ে ছড়িয়ে বললো, এসে গেলাম, কাহিনী শুনতে। 

 

চা পর্ব শেষে বাইরে এসে বসলো দুজন। রীনা শুরু করলো… সব শেষে বললো, নাসির, আমি বীরাঙ্গনা, সেটা আমার লজ্জা না, গর্ব; অন্তত নিজের সম্পর্কে এই আমার অভিমত, বিশ্বাস করুন।  

 

 

ভালো কথা, আগ্রহের সঙ্গে বললো নাসির, আমিও তো মুক্তিযোদ্ধা আর সেটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাহলে তোমারই-বা অহংকার থাকবে না কেন? কিসের লজ্জা? লজ্জা তাদের যারা দেশের বোনকে রক্ষা করতে পারে নি। শত্রুর হাতে তুলে দিয়েছে। আমাদের এ অপরাধের জন্য আমি সবার পক্ষ থেকে তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। নতজানু হয়ে জোড়হাতে দাড়ালো নাসির। 

 

রীনার দু’চোখের জল গাল বেয়ে নামছে তখন। নাসির তখন গিয়ে ওকে সযত্নে কাছে টেনে নিলো, চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললো, তাহলে মাকে বলি আমাদের প্রস্তাব মঞ্জুর? 

 

রীনা ঘাড় নেড়ে সায় দিলো। নাসির চলে গেল। রীনা ভাবলো৷ এ কি সত্যি? তার জীবন এমনভাবে ভরে উঠবে, পূর্ণতা পাবে এও কি সম্ভব!  

 

বিয়ের পর বাসরঘরে ঢুকে নাসির আমাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে বললো, তোমাকে অভিনন্দন বীরাঙ্গনা!  

 

সহজভাবে জীবন চলেছে। আমি নিঃসন্দেহে সুখী। আমাদের তিনটি সন্তান আছে। আমাকে চাকরিটা ছাড়তে হয়েছিল কারণ নাসিরের ছিল বদলির চাকুরি। এক সময় কুমিল্লাতেও ছিলাম। হাসপাতালটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। নিজে যে ঘরে যে বেডে ছিলাম, হাত বুলিয়ে দেখলাম। সেদিন ছিলাম বন্দি আর আজ স্বাধীন।   

 

আরো পড়ুন : মুক্তিযুদ্ধের নারীরা

 

একটি মেয়ে তার জীবনের যা কামনা করে তার আমি সব পেয়েছি। তবুও মাঝে মাঝে বুকের ভেতরটা কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে। কিসের অভাব আমার, আমি কী চাই? হঁ্যা একটা জিনিস, একটি মুহূর্তের আকাঙ্খা মৃত্যু মুহূর্ত পর্যন্ত রয়ে যাবে। এ প্রজন্মের একটি তরুণ অথবা তরুণী এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, বীরাঙ্গনা আমরা তোমাকে প্রণতি করি, হাজার সালাম তোমাকে। তুমি বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঐ পতাকায় তোমার অংশ আছে। জাতীয় সংগীতে তোমার কণ্ঠ আছে। এদেশের মাটিতে তোমার অগ্রাধিকার। সেই শুভ মুহূর্তের আশায় বিবেকের জাগরণ মুহূর্তে পথ চেয়ে আমি বেঁচে রইবো। 

 

আরো দেখুন : আমাদের বিজয়ের অসাধারণ এক গল্প 


কৃতজ্ঞতা : নীলিমা ইব্রাহিম 

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...