আবু জাহেলের শিরশ্ছেদ এর ইতিহাস (ভিডিও)

আবু জাহেল ঘোড়ায় চড়ে ছুটছিল। একজন আক্রমণ করল আবু জেহেলের ঘোড়ায়। আরেকজন আবু জেহেলের পায়ে খোলা তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটপট করতে লাগল কাফের সর্দার আবু জাহেল।

আবু জাহেলের শিরশ্ছেদ এর ইতিহাস

  

বদরের ময়দান। চলছে তুমুল যুদ্ধ। একদিকে মুসলমান। আরেক দিকে কাফের। মুসলমানদের দলে আছেন স্বয়ং রাসূলে করীম (সাঃ)। আরো আছেন সাহাবীগণ। কাফেরদের দলে রয়েছে মুহাম্মদের অন্যতম ঘোরবিরোধী এবং ইসলাম ও মক্কার মুসলমান বিরোধীদের প্রথম সারির পতাকাবাহী আবু জাহেল। সে ছিল মক্কার একজন বহুঈশ্বরবাদী পৌত্তলিক বা মূর্তিপূজারী কুরাইশ নেতা। নবী মুহাম্মদের নবুয়্যাত ও ইসলাম প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আবু জাহেল ইসলামের ঘোর বিরোধিতা ও ইসলামী অনুসারীদের অকথ্য নির্যাতন শুরু করেন। ইসলাম তাকে এতো দূর্ভাব ও শত্রু হিসাবে দেখে যে মুহাম্মাদ তাকে “এই উম্মতের ফেরাউন” উপাধি দিয়েছিলেন। বহুদিন পর্যন্ত যেসব কাফের মক্কায় মুসলমানদের কষ্ট দিয়েছে, নির্যাতন করেছে, রাসূল (সাঃ)-কে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাঁদের অনেকেই এসেছে এই যুদ্ধে।

 

চারিদিকে শত্রুকে খুঁজে চলেছে সবাই। কেউ কারো দিকে নজর দেওয়ার সময় পর্যন্ত নেই। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছিলেন আর ভাবছিলেন,  শত্রুকে কিভাবে ঘায়েল করা যায়। হঠাৎ দেখলেন, তার দু’পাশে এসে দাঁড়ালো দুটি বালক। দু’জনই মুসলিম। তিনি কিছুটা হতাশ হলেন আর মনে মনে ভাবছিলেন এ তো নিতান্তই দুই বালক! এরা কিভাবে শত্রুকে পরাস্ত করবে! ঠিক তখনই এক বালক এসে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ)’র হাত জড়িয়ে ধরে বললো—”চাচাজান! আপনি আবু জাহেল কে চিনেন?”

 

তিনি বললেন, “হ্যাঁ চিনি।” আবু জাহেলের কাছে বালকটির কি দরকার জানতে চাইলে সে উত্তর দিল- “আমি শুনেছি, সে মহানবী (স) কে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তাই আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি যদি তাকে দেখতে পাই, আমার ছায়া তাকে অতিক্রম করবে না, যতক্ষণ না আমি তাকে হত্যা করি কিংবা সে আমাকে হত্যা করে।”

এ বালকের কথা শুনে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) রীতিমতো অভিভূত হয়ে গেলেন। 

কিছুক্ষণ পর অন্য বালকটি এসেও একই কথা তাঁকে  জিজ্ঞেস করল- “হে চাচাজান! আবু জাহেল কেথায়?”

 

তিনি তাকেও জিজ্ঞাসা করলেন, “তার কাছে তোমার কী দরকার?” ২য় বালকটিও আগের বালকটির মতোই উত্তর দিল এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বললো, “যেখানেই আবু জাহেলকে পাবো আমি হত্যা করব অথবা শহিদ হব।”

 

অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) লক্ষ্য করলেন আবু জাহল সামান্য দূরেই যুদ্ধের ময়দানে ঘোড়া নিয়ে ছুটোছুটি করছেন। তখন তিনি কিশোর দু’জনকে দেখিয়ে বললেন, “এই সেই আবু জাহেল, যার পরিচয় জানতে চাচ্ছো”। এ কথা শোনার পর বালক দুটি তৎক্ষণাৎ ছুটে গেলো।

 

আবু জাহেল ঘোড়ায় চড়ে ছুটছিল। একজন আক্রমণ করল আবু জেহেলের ঘোড়ায়। আরেকজন আবু জেহেলের পায়ে খোলা তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটপট করতে লাগল কাফের সর্দার আবু জাহেল। পাশেই যুদ্ধরত আবু জাহেলের ছেলে তৎক্ষণাৎ ছুটে এসে একটি বালকের হাত তরবারীর আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে দিলো। শুধু চামড়া দিয়ে ঝুলে রইলো।

ঝুলে থাকা কাটা হাত নিয়ে যুদ্ধ করতে অসুবিধা হওয়ায় বালকটি পায়ের নিচে হাত রেখে একটানে নিজের হাতটা ছিঁড়ে ফেললো। তারপর ছিঁড়ে ফেলা হাত দূরে নিক্ষেপ করে আবারো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এমন ভয়ানক কাণ্ড দেখে আবু জাহেলের ছেলে দ্রুত সেখান থেকে প্রস্তান করলো।

 

বালক দু’জন আবারো আবু জেহেলের শরীরের উপর চড়ে বসলো। এখনো আবু জেহেল মরেনি, সে সময় শুধু তার শ্বাসঃপ্রশ্বাসটুকু অবশিষ্ট ছিল। বালকদের এমন দুঃসাহসিক ঘটনা দেখে আব্দুর রহমান ইবনে আ’উফ (রাঃ) এগিয়ে গিয়ে এক কোপে আবু জেহেলের শরীর থেকে মাথাতা আলাদা করে ফেললেন। 

 

ইসলাম ও রাসূল (স) এর ঘোর শত্রুকে এভাবেই সাহসিকাতার সাথে খতম করল দুই কিশোর। সাহসী কিশোর দু’জনের একজনের নাম মা’আয যার হাত কাটা গিয়েছিলো। অপর জনের নাম মুআ’ও ওয়ায। এরাই হলেন রাসূল (সাঃ)-এর কিশোর সাহাবী।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...